কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। সভায় তিনি কয়েকজন সাংবাদিককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বলেন, ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে, আমি যেভাবে চাই সেভাবে চলতে হবে।
গত শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরবর্তীতে আজ রোববার বক্তব্যটির খণ্ডাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সভায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হইনি। গত ১৭ বছরে আপনাদের কাউকে নাঙ্গলকোট নিয়ে একটি নিউজ করতে দেখিনি। সুতরাং ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে। আমি যেভাবে চাই, সেভাবে চলতে হবে।’
এ সময় তিনি নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। বরং একপর্যায়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, অন্য সাংবাদিকরা বক্তব্য দিতে চাইলে এমপি কড়া ভাষায় তাদের থামিয়ে দেন। পাশাপাশি তার সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ প্রকাশ করলে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
একপর্যায়ে সাংবাদিক মাঈন উদ্দিন দুলালকে উদ্দেশ করে এমপি মোবাশ্বের আলম বলেন, ‘উনিও তথাকথিত বিএনপি। আমি এমপি হওয়ার পথে ছিলাম, উনি হাদিয়ার জন্য ফোন করেছেন। পরে আমি উনাকে ব্লক মেরেছি।’ পাশে বসা আরও দুই সাংবাদিককে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এখানে জামায়াতের আড্ডাখানা আছে। সব জেনেশুনেই আজকে বিষপান করতে বসছি।’
সভায় বক্তব্য দিতে চাইলেও নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন জনিসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিককে থামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চাইলেও ‘সবুজ পত্র’ সম্পাদক জামাল উদ্দিন স্বপনকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।
সভায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব পুনর্গঠন করা হবে এবং সাংবাদিক হওয়ার যোগ্যতা যাচাই করে সদস্যপদ দেওয়া হবে।’ এ জন্য নতুন গঠনতন্ত্র তৈরির কথাও জানান তিনি।
এদিকে এমপির এমন বক্তব্য ও আচরণে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অতিরিক্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ওনার এভাবে বলা ঠিক হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীর কারও কথায় চলে না। সাংবাদিকরা সংবাদ পরিবেশন করবে কারও খারাপ লাগবে আবার কারও ভালো লাগবে। সে জন্য একজন এমপি এভাবে ধমকের সুরে কথা বলতে পারেন না। আমর এর তীব্র নিন্দা জানায়।