‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (১০ মে) শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বর্ণাঢ্য বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের উদ্বোধন হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান। তিনি পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তবে এবারের পুলিশ সপ্তাহে থাকছে না অন্যতম আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান অনুষ্ঠান।
পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ যেসব পদক দেওয়ার কথা ছিল, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে পদক প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিত রয়েছে।
শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ সদরদপ্তরের পুলিশ সপ্তাহ আয়োজন কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, যেহেতু এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তাই রোববার পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী আয়োজনে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদান অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
জানা গেছে, সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য মোট ১০৭ পুলিশ সদস্যকে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে তালিকা প্রকাশের পর অভিযোগ ওঠে, ফ্যাসিস্ট আমলে সুবিধাভোগী কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নামও পদকের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হলে শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানসূচি থেকে পদক প্রদান পর্বটি বাদ দেওয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, পদকপ্রাপ্তদের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।