Image description

আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশাল আকৃতির ও বাহারি নামের পশুর হাট কাঁপানোর প্রস্তুতি চলছে। তারই অংশ হিসেবে এবার কিশোরগঞ্জের কোরবানির হাট কাঁপাবে বিশাল দুটি ষাঁড় ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’। গরু দুইটি এখন মানুষের আকর্ষণ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই আলোচিত গরু দুইটি দেখার জন্য ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

গরু দুইটির মালিক হলেন–কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের উজানহাটি গ্রামের খামারি সাইদুর রহমান।

এলাকাবাসী ও গরুর মালিকের ধারণা, এখন পর্যন্ত এ দুইটিই জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু। বাড়িতে বিক্রি না হলে এগুলো কোরবানির হাটে নেওয়া হবে।

জানা গেছে, শাহিওয়াল জাতের গরু দুইটি সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খেয়ে মোটাতাজা হয়েছে।

এর মধ্যে ‘মোস্তাক’-এর ওজন প্রায় ১৩ শ কেজি এবং ‘কামিনী’র ওজন ১২ শ কেজি। দুটি মিলিয়ে প্রায় ৬২ মণ ওজন। গরু দুইটি এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাড়ির সামনে ছায়ার নিচে বড় আকৃতির দুইটি গরু রাখা হয়েছে।

আশপাশের মানুষ কৌতূহলী হয়ে দেখছেন, কেউ আবার মোবাইলে ছবি তুলে রাখছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ দেখতে আসছেন গরু দুইটিকে। গরুর মালিক নিজ সন্তানের মতো যত্ন করে খাবার খাওয়াচ্ছেন। কখনো আবার নিজের হাতে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন। প্রায় তিন বছর ধরে এভাবেই গরু দুইটিকে যত্নসহকারে লালন-পালন করে আসছেন তিনি।
বাড়ির পাশের হাওরের প্রাকৃতিক কাঁচা ঘাস, ধানের খড়, ভুসি, ভুট্টা ও ডাবলি খাইয়ে গরু দুটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তিন বছর আগে প্রায় তিন লাখ টাকায় স্থানীয় হাট থেকে তিনটি গরু ক্রয় করেছিলেন সাইদুর রহমান। এর মধ্যে এবার দুইটি বিক্রি করবেন তিনি।

কারপাশা ইউনিয়নের উজানহাটি গ্রামের সুলাইমান মেম্বার বলেন, আমাদের এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু এটি। নিজের চোখে দেখেছি কতটা কষ্ট করে গরু দুইটি লালন-পালন করা হয়েছে। গরু দুইটি একেবারে সুস্থ-সবল রয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার দিয়ে এগুলো পালন করা হয়েছে। শৌখিন মানুষের জন্য গরু দুটি আদর্শ হবে।

একই এলাকার শাহাদাত হোসেন ও মিঠু বলেন, প্রথমে দূর থেকে দেখে হাতির মতো মনে হয়েছে। বিশাল আকৃতির গরু দুটি জেলার সবচেয়ে বড় হবে বলে আমাদের ধারণা। খুবই চঞ্চল প্রকৃতির গরু। এগুলো বিক্রি হলে আমরাও খুশি হব।

গরুর মালিক সাইদুর রহমান বলেন, অনেক কষ্ট করে গরু দুটি লালন-পালন করেছি। প্রতিদিন গরু দুটির পেছনে প্রায় ২৩ শ টাকার খাদ্য খরচ হয়। কোনো ইনজেকশন বা ওষুধ প্রয়োগ করে কৃত্রিমভাবে বড় করা হয়নি। যাচাই-বাছাই করে যে কেউ নিতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, গরু দুটির ওজন প্রায় ৬২ মণ হতে পারে। প্রাকৃতিক খাবারই বেশি খাওয়ানো হয়েছে। আমার চাওয়া, গরু দুটি ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করা। তবে কেনাবেচার সময় আলোচনার ভিত্তিতে দাম কমবেশি হতে পারে।

নিকলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে গরু পালনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এটি হাওর এলাকা হওয়ায় দেশীয় খাবার খাইয়ে পশু পালন বেশি হয়। ‘কামিনী’ ও ‘মোস্তাক’কে যেসব খাবার খাওয়ানো হচ্ছে, সেগুলো খুবই ভালো। গরু ভালো থাকলে খামারিও ভালো দাম পাবেন। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাব।