Image description

যশোরের নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যার ঘটনায় দুইজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ (৩৮), একই গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে নাসির (৩২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন।

 

এদিকে, আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ নামের এক যুবক তার কোমরে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে একাধিকবার কুপিয়ে চলে যান। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আনিছুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে। তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত আনিছুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি ব্যবসায়িক কারণে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক এবং নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুয়াখোলা গ্রামের পীরবাড়ী মসজিদের সামনে আনিছুর রহমান তার নির্মাণাধীন ৬তলা ভবন ‘আনিছ ট্রেড ভ্যালী’র ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় শাহ মো. মাহমুদ তার সহযোগী নাসিরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন অস্ত্রধারী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ গালিগালাজ করে এবং তার কাছে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে, সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে আনিছুর রহমানের মৃত্যু হয়।

মামলার বাদী নাহিদা ইসলাম বলেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। দুইজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মামলা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে ব্যবসায়ী নেতারা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, আনিছুর রহমানের হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার নওয়াপাড়ার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ব্যবসায়ীরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।