Image description

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় প্রবাসী মনির হোসেন নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানসহ পাঁচজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৮ মে) উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে গভীর রাতে কোনো এক সময় তাদের হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী জানান, রাউতকোনা এলাকার মনির হোসেন প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানরা থাকেন। শুক্রবার রাতেও সবাইকে স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে শনিবার ভোরে ওই বাড়িতে দেখা যায় পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে রয়েছে। কারা কেন তাদের হত্যা করেছে, বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরিফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহত শারমিনের ভাগনে সাকিব জানান, শ্যালক রসুলকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোনে ডেকে নিয়ে আসেন দুলাভাই ফোরকান। পরে রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে স্ত্রী, শ্যালক এবং তিন মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেন। ফোরকান ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন।

সাকিব আরও জানান, অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান প্রাইভেটকার চালক। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাউতকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। নানা শাহাদাত মোল্লা সাকিবকে ফোন করে জানান, শারমিন এবং রসুলকে হত্যা করা হয়েছে। পরে সাকিব সকাল ৭টার দিকে ওই বাড়িতে এসে ঘরের মেঝেতে রসুল, শারমিন এবং শারমিনের তিন মেয়ের মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। একই পরিবারের পাঁচ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তার তিন সন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে জবাই করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক রয়েছেন।’