Image description

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বিমান শিল্পে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলেও, দুবাইভিত্তিক বৃহত্তম উপসাগরীয় এয়ারলাইন এমিরেটস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক এয়ারলাইন যেখানে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, সেখানে এমিরেটস বলেছে যে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম এখন যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যায়ে ফিরে এসেছে। পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

এমিরেটসের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম বলেন, জ্বালানির দিক থেকে এমিরেটস ২০২৮-২৯ সাল পর্যন্ত ভালোভাবে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কার্যক্রম এবং যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির পরিমাণ আমরা আগেই নিশ্চিত করেছি।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই এয়ারলাইনটি উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা। তারা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের রেকর্ড ব্যবসায়িক সাফল্যের তথ্যও প্রকাশ করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর যুদ্ধ শুরু হয়। তার আগে মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে এমিরেটসের কর-পূর্ব মুনাফা ৭ শতাংশ বেড়ে ৬.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে তাদের আয়ও ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

শেখ আহমেদ বলেন, আমাদের নগদ অর্থের রিজার্ভ খুবই শক্তিশালী। তাই হঠাৎ করে ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ ছাড়াই আমরা ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমিরেটস অতীতেও নানা সংকট ও অস্থিরতা সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

দুবাইয়ের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান এমিরেটস যুদ্ধের প্রথম দিকে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক তেলের মজুত দ্রুত কমে গেছে এবং এপ্রিল মাসে এই পতনের গতি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। জেট জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বহু এয়ারলাইন ব্যয় সংকোচন ও ফ্লাইট বাতিলের পথে হাঁটছে। ডেল্টা এয়ার লাইনস তাদের সেবা ৩.৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে লুফথানসা ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং তাদের আঞ্চলিক এয়ারলাইনের কার্যক্রম আগেভাগেই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিমান চলাচলবিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইনগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০ লাখ আসন কমিয়ে দিয়েছে। এমিরেটস আগামী বছরের জন্য কোনো আর্থিক পূর্বাভাস দেয়নি। তবে শেখ আহমেদ বলেন, আমাদের ব্যবসার ভিত্তি শক্তিশালী এবং পরীক্ষিত ব্যবসায়িক মডেলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি জানান, চলমান সংঘাতের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটিকে মালিকপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা নিতে হয়নি।

তবে মার্চ পর্যন্ত বছরে এমিরেটসের যাত্রীসংখ্যা কিছুটা কমেছে। আগের বছরের ৫ কোটি ৩৭ লাখ থেকে তা নেমে ৫ কোটি ৩২ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বিমানের আসন পূরণের হার বা ‘লোড ফ্যাক্টর’ও ৭৮.৯ শতাংশ থেকে কমে ৭৮.৪ শতাংশে নেমেছে। যুদ্ধজনিত অস্থিরতার প্রভাবেই এই পতন ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।