শাপলা চত্বরে ৫মে গণহত্যার বিচার না চেয়ে শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একাডেমিক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির অডিটোরিয়ামে 'শাপলা গণহত্যা: ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান" শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কর্তৃক হেফাজত নেতাকর্মীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাননি সংগঠনটির তৎকালীন শীর্ষ নেতারা।
চবি উপ-উপাচার্য বলেন, আপনারা নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করেন, কিন্তু সময় সময় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন। রাসূল সা. এর যুগ থেকে আলেম সমাজ সবসময় জাতিকে সঠিক পথে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু বারবার আপনারা সেই দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন, যা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।
৫ মে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আপনাদের স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া জরুরি উল্লেখ করে শামীম উদ্দিন খান বলেন, এ দেশের ইসলাম, তাহজিব ও তামুদ্দুন রক্ষায় সোচ্চার হওয়া আপনাদের দায়িত্ব। এখন সময় এসেছে সেই দায়িত্ব পালনে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসার।
চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ৫ মে শাপলা চত্বরে এক শিশুকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি কি জান, আজ ঢাকায় কী হচ্ছে। তখন সেই শিশু বলেছিল, ‘আজ মুসলিমদের সঙ্গে আওয়ামীলীগের লড়াই হচ্ছে।’ অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষ ধরে নিয়েছিল, ৫ মে দাড়ি-টুপি পরা যেসব মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, তারা মুসলিম। আর মুসলিমদের বিপরীতে লড়াই করেছিল আওয়ামীলীগ।
চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি জাকারিয়া নোমান ফয়েজী।
এ ছাড়া আলোচনা সভায় আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ. ক. ম. আবদুল কাদের, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী বরকত আলী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল হক ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হক এবং চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব প্রমুখ বক্তব্য দেন।