ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ৫ মে। ১৩ বছর আগের এই রাতে ঢাকার মতিঝিলে শাপলা চত্বর ছিল লাখো মানুষের এক বিশাল সমুদ্র। হেফাজতে ইসলামের ডাকে আসা হাজারো মাদরাসার ছাত্র-জনতা নামাজ শেষে যার যার জায়গায় বসে আছেন। মাইকে তখনো ভাসছে তীব্র জ্বালাময়ী বক্তব্য। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত চারপাশ। হঠাৎ সব আলো নিভে গেল। তারপর কেয়ামত নেমে এলো শাপলার বুকে। চতুর্দিক থেকে ধেয়ে আসছে গুলির শব্দ, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট আর সাউন্ড গ্রেনেড। অন্ধকারে মানুষ ছুটছে, পড়ছে, চিৎকার করছে—কোথায় যাবে, কেউ বুঝতে পারছে না!
সেই রাতে ঠিক কতজন মানুষ মারা গেছেন, আজও তার কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। কিন্তু সেই রাতের বুলেট যাদের শরীর এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে গেছে, তারা আজও বেঁচে আছেন ডানাভাঙা পাখির মতো; কেউ হাত হারিয়েছেন, কেউ হারিয়েছেন পা, কারোবা চিরতরে নিভে গেছে চোখের আলো।
রাশেদের এক পায়ে চলা ১২ বছর
রাশেদুল ইসলাম সিরাজী, শিক্ষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
সাভারের রপ্তানি এলাকার ভাদাইলে একটি ছোট্ট মুদি দোকান চালান ২৮ বছর বয়সি মুফতী রাশেদুল ইসলাম সিরাজী। দূর থেকে তাকালে আর দশটা সাধারণ সংগ্রামরত মানুষের মতোই মনে হয়। স্ত্রী, এক সন্তান আর মাদরাসার শিক্ষকতা নিয়ে সাদামাটা জীবন তার। এই সাদামাটা জীবনের আড়ালেই লুকিয়ে আছে সাড়ে চার লাখ টাকার ঋণের এক অদৃশ্য পাহাড় আর এক পা হারানোর দুঃসহ এক স্মৃতি!
২০১৩ সালে রাশেদুলের বয়স ছিল মাত্র ১৩ কি ১৪। সিরাজগঞ্জের হাজী আহমাদ জামিয়া আশরাফুল মাদারিসের ছাত্র। টগবগে কৈশোর, মুখে তখনো দাড়ি না গজালেও বুকে ছিল রাসুলের (সা.) প্রতি নিখাদ ভালোবাসা। ২০ জনের একটি কাফেলার সঙ্গে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। পথে পুলিশের চেকপোস্ট পেরিয়ে পাঁচজন করে ছোট দলে ভাগ হয়ে আসতে হয়েছিল। জোহর, আসর, মাগরিব, এশা—চার ওয়াক্ত নামাজ পড়েছিলেন রাজপথেই।
শাপলা চত্বরের সেই ভয়াল রাতের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে হঠাৎ চারদিকের আলো নিভিয়ে দেওয়া হলো। শুরু হলো বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ। আমি প্রথমে সোনালী ব্যাংকের নিচের সিঁড়িতে ছিলাম। সেখানে হামলা হলে দৌড়াই দৈনিক বাংলার মোড়ের দিকে। পেছনের গলিপথে যখন পৌঁছাই, যে গলির মাথায় একটা পানির ট্যাংকি ছিল, দুপুরবেলা সেখান থেকেই হেঁটে পানি এনে খেয়েছিলাম—তখনই সিভিল ড্রেস পরা দুজন লোক অন্ধকারে সরাসরি আমার পা লক্ষ করে ফায়ার করল।’
রক্তাক্ত অবস্থায় একটি খাঁচার ভেতরে ভোর পর্যন্ত লুকিয়ে ছিলেন রাশেদুল। নূরুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করে ইসলামিয়া হাসপাতালে নেন। কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে বাংলাদেশ মেডিকেলে গেলেও চিকিৎসা জোটেনি। তিন দিন পর শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে—ডান পা কেটে ফেলা ছাড়া উপায় নেই। সেই চরম বিপদের মুহূর্তে হাসপাতালের ডাক্তাররা ১৩ বছর বয়সি রাশেদুলের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করেছিলেন, তা তার মনে পড়লে আজও তিনি ডুকরে কেঁদে ওঠেন।
হাফেজ্জি হুজুর (রহ.) সেবা সংস্থার মাওলানা রজীবুল হক ও মাহমুদের সহায়তায় চিকিৎসা চলেছিল। তার পরিবারের এক লাখের বেশি টাকা খরচ হয়েছে। পা হারানো নিয়ে রাশেদুলের কোনো আক্ষেপ নেই, শুধু একটি প্রশ্নই তার, ‘এই দুর্বিষহ জীবনযুদ্ধের শেষ কোথায়? আদৌ কি তাদের সঙ্গে ইনসাফ করা হবে, সরকারিভাবে কি দেওয়া হবে শাপলা গণহত্যার স্বীকৃতি, পুনর্বাসন হবে, ক্ষতিপূরণ মিলবে—যাতে কারো দ্বারে গিয়ে দাঁড়াতে না হয়?’
সম্মানের জীবন চান নূরে আলম
মোহাম্মদ নূরে আলম, সিকিউরিটি গার্ড
পটুয়াখালীর জেলার গলাচিপা থানার সন্তান মোহাম্মদ নূরে আলম। বয়স ৩০। একটা মাদরাসায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন। স্ত্রী, দুই সন্তান আর অসুস্থ মাকে নিয়ে তার চরম অভাবের সংসার। কারণ তার বাঁ চোখটি নেই এবং ব্রেন স্ট্রোকে শরীরের ডান পাশ অবশ।
২০১৩ সালে তার বয়স ছিল ১২ বা ১৩। নারায়ণগঞ্জের পাগলা ফতুল্লার একটি মাদরাসার ছাত্র। মহাসমাবেশে যোগ দিতে মাদরাসার পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে তিনি কাঁচপুর থেকে হেঁটে শাপলা চত্বরে পৌঁছান। শাপলা চত্বরে পৌঁছানোর আগে এক সাথির ফোন থেকে মাকে ফোন করেছিলেন নূরে আলম। মা উদ্বিগ্ন হয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি ওখান থেকে চলে এসো।’ ১৩ বছরের কিশোর নূরে আলম জবাব দিয়েছিলেন, ‘মা, যদি শহীদ হই, তাহলে এই পথেই যেন শহীদ হয়ে যাই।’
শেষ রাতে হঠাৎ পুরো এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে আক্রমণ শুরু করে স্বৈরাচার সরকারের যৌথ বাহিনী। বৃষ্টির মতো গুলি। দৌড়াতে গিয়ে একটি বুলেট সরাসরি নূরে আলমের বাঁ চোখে এসে লাগে। তিনি ছিটকে ফুটপাতের ড্রেনে পড়ে যান। এরপর দীর্ঘ তিন মাস তার জ্ঞান ছিল না। এই অন্ধকার তিন মাসের কোনো স্মৃতি নেই তার জীবনে।
কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছিলেন। নূরে আলমের পকেটে থাকা ৫০০ টাকা দিয়ে সেই ব্যক্তিটি একটি মাদুর আর বালিশ কিনে তাকে শুইয়ে রেখে যান। ‘হেফাজতের রোগী’ ট্যাগ থাকায় পুলিশি হয়রানির ভয়ে কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল তাকে ভর্তি নিচ্ছিল না। শেষে ঢাকা মেডিকেলের এক সহানুভূতিশীল নার্সের সহায়তায় পুরোনো শার্ট-লুঙ্গি পরিয়ে অরাজনৈতিক পরিচয়ে তাকে ভর্তি করানো হয়।
জ্ঞান ফিরলে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। অপারেশনের আগে ডাক্তার বললেন, চোখটা তুলে ফেলতে হবে, স্প্লিন্টারের কারণে ভেতরে সব নষ্ট হয়ে গেছে। ‘এ কথা শুনে আমি হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম,’ বলেন নূরে আলম।
গুলির তীব্রতায় তার ব্রেন স্ট্রোক করেছিল। দীর্ঘদিন ব্যায়াম করে এখন তিনি সামান্য চলাফেরা করতে পারেন। মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের তত্ত্বাবধানে এবং শাপলা স্মৃতি সংসদের সাম্প্রতিক সহযোগিতায় চিকিৎসা চললেও বাকি অর্থের জোগান দিতে গিয়ে পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় গত জানুয়ারিতে মারা গেছেন তার বাবা।
নূরে আলমের ভাষ্য—‘আমি ভারী কাজ করতে পারি না। সরকারের কাছে এবং হেফাজতের দায়িত্বশীলদের কাছে আকুল আবেদন—আমাদের জন্য অন্তত একটা আয়ের ব্যবস্থা করে দিন। পরিবার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই, ভিক্ষা চাইতে যেন না হয়।’
আহতদের তালিকার দাবি নাসিরের
নাসির উদ্দিন আহমেদ, চাকরিজীবী
নাসির উদ্দিন আহমেদ। বয়স ৩৬। নারায়ণগঞ্জের একটি কোম্পানিতে হিসাবরক্ষকের কাজ করেন। বেসরকারি কোম্পানির হিসাবরক্ষক এই যুবকের হাতে মাস শেষে বেতন আসে ২০ হাজার টাকা। বর্তমানের এই দুর্মূল্যের বাজারে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই টাকায় টিকে থাকা এমনিতেই এক হিমালয়সম সংগ্রাম, তার ওপর এই ২০ হাজার টাকা থেকে প্রতি মাসে তাকে পাঁচ হাজার টাকা সরিয়ে রাখতে হয় একটি ঋণের কিস্তি হিসেবে।
এই ঋণ নেওয়া হয়েছিল তার নিজের পায়ের ভেতর থেকে ১৩ বছর ধরে বয়ে বেড়ানো একটি ধাতব রড বের করার জন্য, যে রডটি রাষ্ট্র তাকে ‘উপহার’ দিয়েছিল ৫ মে’র সেই ভয়াল রাতে।
তার জীবনটা এমন হওয়ার কথা ছিল না। ছোটবেলায় মাদরাসায় পড়ে তিন পারা কুরআন হেফজ করেছিলেন। এরপর সাধারণ শিক্ষায় চলে আসেন। সানারপাড় থেকে এসএসসি এবং দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর তিনি তাবলীগে সময় দেন। শরীরে জড়িয়ে নেন সুন্নতি লেবাস, আর বুকে গেঁথে যায় রাসুলের (সা.) প্রতি নিখাদ ভালোবাসা।
ততদিনে তিনি ঢাকা কমার্স কলেজে বিবিএতে ভর্তি হয়েছেন। চোখে তখন করপোরেট দুনিয়া জয়ের স্বপ্ন। ২০১৩ সালে তার প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। ঠিক তখনই শাহবাগের ব্লগারদের দ্বারা রাসুলকে (সা.) কটূক্তির প্রতিবাদে শীর্ষস্থানীয় আলেমদের ডাকে শুরু হয় আন্দোলন। ৫ মে যাত্রাবাড়ী রোডে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ব্লক ও জ্বালানো টায়ারের আগুনের কারণে তিনি শাপলা চত্বরে পৌঁছাতে পারেননি। আটকে পড়েন মাদানীনগর মাদরাসায়। রাতভর শাপলা চত্বরের ম্যাসাকারের খবর শুনে ৬ মে সকালে ছোট ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বহু মানুষ তখন পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাদরাসায় আশ্রয় নিচ্ছিল। হঠাৎ টিয়ারশেলের গন্ধে ছাদে ছুটে যান; দেখেন, হাইওয়ের উল্টো পাশের ১০ তলা বিল্ডিং থেকে পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুন্ডাবাহিনী সরাসরি মাদানীনগর মাদরাসা লক্ষ করে বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ছে।
তিনি বলেন, মুহতামিম সাহেব মাইকে ঘোষণা দিলেন, ‘এলাকাবাসী, মাদরাসা আক্রান্ত, আপনারা বের হোন।’ মুহূর্তেই ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। ‘আমরা বের হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া করছিলাম। পুলিশ ডাইরেক্ট ফায়ার করছে তখন। আমাদের চোখের সামনেই মাথায় ও বুকে গুলি লেগে সাত-আটজনের মধ্যে তিন-চারটা লাশ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।’
গুলি ছুড়তে ছুড়তে ১০-১৫ জনের পুলিশের একটি দল কাঁচপুরের দিকে এবং আরেকটি দল সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী রোডের দিকে সরে যায়। কয়েকজন পুলিশ একটি পাঁচতলা ভবনে ঢুকে কল্যাপসিবল গেটে তালা মেরে দেয়। ক্ষুব্ধ জনতা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে।
তরতাজা এই বিবিএপড়ুয়া ছাত্র যখন নিচে নামেন, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। তিনি দেখতে পান, চিটাগাং রোড ও কাঁচপুর থেকে আসা পুলিশ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের মাঝখানে তিনি একা পড়ে গেছেন। জীবন বাঁচাতে একটি গলিতে ঢোকার জন্য একবুক শ্বাস নিয়ে দৌড় দিলেন।
হঠাৎ তার মনে হলো, পায়ে প্রচণ্ড গরম কিছু একটা বিঁধে গেছে। মুহূর্তেই পা’টা অবশ হয়ে ঝুলে পড়ল। রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়লেন তিনি। রক্তাক্ত রাস্তায় পড়ে থাকা এই তরুণকে দেখে দুজন অকুতোভয় মানুষ নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাকে চ্যাংদোলা করে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ডিসপেনসারিতে রক্ত বন্ধ না হওয়ায় সকাল ১০টা-১১টা নাগাদ তাকে নেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে শ্যামলী ট্রমা সেন্টারে পাঠান।
সেখানে পৌঁছানোর পর শুরু হয় আরেক অমানবিক লড়াই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়, নগদ দুই লাখ টাকা জমা না দিলে অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলবে না। ছেলের এই করুণ দশায় তার বাবা পাগলের মতো ছুটতে থাকেন। ব্যাংকের জমানো ডিপোজিট ভাঙেন, নিজের কোম্পানির বসের কাছ থেকে ধার করেন, আর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করেন।
বুলেট তার পা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছিল। চিকিৎসকরা ভাঙা হাড়গুলো বের করে পায়ে রড ঢোকান এবং হাঁটুর ওপরের রান থেকে জ্যান্ত মাংস কেটে বুলেটের গর্তটি ভরাট করেন।
পুলিশের মামলার ভয়ে হাসপাতাল ছেড়েই এক বছরের জন্য তিনি সিলেটে পালিয়ে যান। সেখানে চলে ড্রেসিং। অপারেশন এবং এক বছরের চিকিৎসায় তার খরচ হয় প্রায় ৯-১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ শাখার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ৪০-৫০ হাজার এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা সাহায্য মিলেছিল। বাকি পুরো পাহাড়সম টাকাটা ছিল ঋণের। এই ঋণের ভারে তার পড়াশোনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, চিকিৎসকরা তাকে তিন-চার বছর পর পায়ের ভেতরের মেটালিক রডটি খুলে ফেলার কথা বলেছিলেন। কিন্তু একটি ছোটখাটো চাকরিতে ঢুকে পরিবারের ঘানি টানতে গিয়ে রড খোলার টাকার ব্যবস্থা তিনি আর করতে পারেননি। খুলতে পেরেছেন ১২ বছর পর ২০২৫ সালে। সেই রডটি এখন সংরক্ষিত আছে জুলাই জাদুঘরে।
কিন্তু ১৩ বছর পর আজ তার শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বুকভরা আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘শহীদদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে; কিন্তু আমরা যারা পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছি, ১৩ বছর পার হলেও আমাদের কোনো খোঁজ কেউ নেয়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, হেফাজতে ইসলামের মতো এত বড় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নাকি আমাদের মতো আহতদের কোনো তালিকাই নেই!’