Image description

‘‌অসুস্থ হয়ে ক্লিনিকে গেলে ডাক্তার তো থাকেই না, তেমন কোনও ওষুধপত্র পাওয়া যায় না। গেলে শুধু ওরস্যালাইন আর আয়রনের ট্যাবলেট দেয়। গর্ভনিরোধের সুখী ট্যাবলেটসহ কোনও কিছুই পাওয়া যায় না। গ্রামে এরহম ক্লিনিক থাইক্যা লাভ কী?’

ক্ষোভের সঙ্গেই কথাগুলো বলেছেন ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর গ্রামের গৃহবধূ লিমা খাতুন (৩৫)। তিনি রবিবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত প্রায় এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে কোনও ওষুধপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। অসুস্থ হয়ে মানুষ গেলে ওষুধ ছাড়া ফিরে আসে। এ কারণে এখন ক্লিনিকে কেউ আর যায় না।

একই গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রামের নারীরা অল্পশিক্ষিত হওয়ায় বেশি বেশি সন্তান নিয়ে থাকে। অনেক নারী গর্ভনিরোধের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে যায় সুখী ট্যাবলেট, কনডম কিংবা ইনজেকশন নেওয়ার জন্য। কিন্তু ক্লিনিকে গিয়ে এসব কিছুই তারা পায় না। পরে বাইরের ফার্মেসি থেকে টাকা দিয়ে কিনে আনতে হয়।’

myminsing.jpg2

ক্লিনিকে তেমন কোনও ওষুধপত্র পাওয়া যায় না

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধপত্রের কোনও কমতি ছিল না।’

গোপালনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সাদিয়া আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০২৫ সালের ১৯ আগস্টের পর কমিউনিটি ক্লিনিকে কোনও ওষুধপত্র সরবরাহ করা হয়নি। গ্রাম এলাকার মানুষের জন্য ২২ ধরনের ওষুধপত্র আগে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে কিছু আয়রন,  ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, কয়েকটা নিউমাইসিন ক্রিম, মলম ও ওরস্যালাইন দিচ্ছে। এ ছাড়া আর কোনও ওষুধ ক্লিনিকে সরবরাহ করা হয় না। ওষুধ না পেয়ে রোগী ও স্বজনরা প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর উপজেলা পরিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহজাহান কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রায় এক বছর ধরেই ঢাকা থেকে ওষুধ সরবরাহ নেই। ওষুধের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো আছে। পাওয়া গেলেই প্রত্যেক কমিউনিটি ক্লিনিকে সরবরাহ করা হবে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। এসব ক্লিনিক আগে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পরিচালিত হতো। বর্তমানে ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাস্টে যাওয়ার পর থেকেই ক্লিনিকগুলোতে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত পাঁচ মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। ওষুধও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য রোগীদের দিতে পারছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা।’