রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল। তিনি বলেছেন, তাকে বিতর্কিত করতে তার নাম সামনে আনা হচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাইদ আক্তার রিপন নিউমার্কেট থানায় অজ্ঞাতনামা ৮-৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বাদী সাঈদ আক্তার সুনির্দিষ্ট করে কাউকে আসামি না করলেও এজাহারে সন্দেহভাজন হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল (পিচ্চি হেলাল), বাদল ওরফে কিলার বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ড্যাগারি রনির নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের সঙ্গে বছিলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে টিটনের বিরোধ চলছিল বলে বাদী জানিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিচ্ছি হেলাল। রাতে এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, তাকে বিতর্কিত করতে তার নাম সামনে আনা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করছে। এতে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালে থাকছে। তিনি দাবি করেন, আসল অপরাধীরা বাইরে অবস্থান করলেও তাদের পক্ষে স্থানীয়ভাবে সক্রিয় একটি চক্র কাজ করছে।
হেলাল আরও জানান, রাজনীতি করার কারণে তার রাজনৈতিক কর্মী ছাড়া কোনো ‘কিশোর গ্যাং’ বা সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। তাকে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি জানান, দেশে থেকেই সব অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে কথা বলতেন না।
তিনি আরও বলেন, টিটন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন এবং গুরুতর কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না। জীবিত অবস্থায় টিটন নিজেই তাকে জানিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষ ইমন (সানজিদুল ইসলাম ইমন ওরফে ক্যাপ্টেন ইমন) তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে এমনকি তাকে হত্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন।
এদিকে ঘটনার দিন টিটনকে পরিকল্পিতভাবে নিউমার্কেটে ডেকে নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে হেলাল বলেন, প্রযুক্তিগত বিষয় বিশ্লেষণ করলে কারা তাকে সেখানে নিয়ে গেছে তা বেরিয়ে আসবে। তার ধারণা টিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইমনের স্ত্রী জড়িত।
এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হেলাল। তিনি বলেন, ঘটনার আগ পর্যন্ত যাদের নাম সামনে আসছিল, পরদিনই এজাহারে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এসময় তিনি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি তোলেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে ছিল তার নাম। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বও দেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা। ২০০৪ সালে টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত বলেন, মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলি করা হয়। এরপর দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারী ব্যক্তিরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টিটনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম মঙ্গলবার বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।