Image description

দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ ও বায়ুচাপের প্রভাবে দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। তবে এমন বৈরী আবহাওয়ায় শুধু বৃষ্টিপাত নয়, চলছে লাগাতার বজ্রপাতও। এই বজ্রপাতে উপকূলীয় কৃষকদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন অনেক খামারি। গত দুই দিনে পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩৫টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বজ্রাঘাতে এত বেশি গরুর মৃত্যু আগে ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

খামারিরা বলছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই আসন্ন ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য গরুগুলো প্রস্তুত করেছিলেন। এই সময়ে বজ্রপাত তাদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করে দিয়েছে। অনেকে গরুগুলো হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বজ্রপাতে এসব গরুর মৃত্যু হয়েছে। এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. জহিরুল ইসলাম, মো. আক্কাস, মহিপুর সদর ইউপির কৃষক জনপতি, লতিফপুর গ্রামের শাহীন খান ও আলতাফ গাজী, ইউসুফপুরের মকবুল খান, মনোহরপুরের রিপন চন্দ্র শীল, মহিপুর গ্রামের আনিস ঘরামি, ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামের মাইনুদ্দিন হাওলাদার, তারিকাটা গ্রামের মো. দেলোয়ার ও সোবহান, বালিয়াতলী ইউনিয়নের মো. বশির, দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম, বালিয়াতলী গ্রামের মো. হাবিবুল্লাহ ও মো. জলিল, রিফিউজি পাড়ার মো. ফেরদাউস ও শাহিদা বেগম, খাপড়াভাঙ্গা গ্রামের আব্বাস মৃধা, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের আনিস খান, নিজাম স্বর্ণমত, এনায়েত তালুকদার ও ছিদ্দিক হাওলাদার, কোমরপুর গ্রামের নূর হোসেনসহ ২৩ কৃষকের ২৯টি গরু বজ্রপাতে মারা গেছে। এগুলোর বেশিরভাগই আগামী কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

তবে এই তালিকা নেই কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাড়ার বেল্লাল হোসেনের নাম। তার তিনটি গরু মারা গেছে বুধবার দুপুরে। এ ছাড়া আরও দুই কৃষকের তিন গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বালিয়াতলী ইউনিয়নের রিফিউজিপাড়ার কৃষক ফেরদৌস দফাদার বলেন, ‘মঙ্গলবার বৃষ্টির সঙ্গে লাগাতার বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বাড়ির সামনেই মাঠে ঘাস খাচ্ছিল দুই মাসের বাছুরসহ আমার একটি গাভি। দুদিন আগেও বাছুরসহ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়ে গেছেন ক্রেতারা। দুটি গরুই একসঙ্গে মারা গেলো।’

ধুলাসার ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘মঙ্গলবার বজ্রপাতে আমার দুটি গাভির মৃত্যু হয়েছে। দুটি গরুর বাজার মূল্য ছিল লাখ টাকার বেশি। এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি আমি।’

কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ বলেন, ‘মঙ্গলবার ও বুধবার বজ্রাঘাতে ২৩ জন কৃষকের ২৯টি গরু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই তালিকা করেছি। তবে অনেক কৃষক গরু মারা যাওয়ার খবর আমাদের জানাননি। মৃত গরুর সংখ্যা অন্তত ৩৫টি হবে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়া হবে। আমরা সঠিকভাবে তালিকা তৈরির কাজ করছি।’