Image description

আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, এরশাদের মার্শাল ল’র সময় তিনি কাউকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখেননি।

 

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী টিটোর জেরায় আযমী এ কথা বলেন।

 

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী টিটো প্রশ্ন করেন, জেনারেল এরশাদের মার্শাল লর সময় আপনি অনেক লোককে বেআইনিভাবে আটক করে, বন্দী করে রেখেছিলেন। এর জবাবে আযমী বলেন, এ কথা সত্য নয়।

জেরায় আবদুল্লাহিল আমান আযমী আরো বলেছেন, এরশাদের সামরিক শাসন আমলে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে কী কারণে বন্দী করে তার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, তা তিনি জানতেন না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আটক করেননি। কী কারণে উপরোক্ত তিনজনকে বন্দী করে আমার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, তা আমি জানতেন না। তাদের আটকের কারণ জানার চেষ্টা করেনি। কারণ তিনি তখন সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত জুনিয়র অফিসার ছিলেন। তখন সামরিক শাসন চালু ছিল। তার পক্ষে এ ধরনের প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ ছিল না।

জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার হয়ে সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। আজ তাদের কারগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

অপর ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী। এছাড়া রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। পলাতক আসামিদের মধ্যে আরো রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।