কয়েক দিন ধরে তীব্র গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে জনজীবন হয়ে উঠেছিল অস্থির। সেই গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই ছুটে এসেছেন সমুদ্রনগরী কক্সবাজারে। নোনাজল আর নরম বালিয়াড়িতে মেতে উঠেছিলেন পর্যটকরা। তবে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, তপ্ত রোদের তেজ ছিল না। কালবৈশাখীর আশঙ্কায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করে।
এদিন দুপুরে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নামছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সৈকতের বালিয়াড়িতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেন একদল পর্যটক।
সমুদ্রপাড়ে জামাতের সঙ্গে নামাজের এ দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, সৈকতে সাধারণত আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ছবি তোলা কিংবা খেলাধুলার দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু এমন ইবাদতপূর্ণ মুহূর্ত বিরল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নরসিংদীর খিদিরকান্দি এলাকা থেকে ‘খাইরুল উম্মাহ আস-সালাফিয়াহ’ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৯৫ জনের একটি দল বার্ষিক ভ্রমণে কক্সবাজারে এসেছন। তাদের মধ্য থেকে প্রায় ৩০ জন মঙ্গলবার দুপুরে সৈকতের বালিয়াড়িতে জামাতে নামাজ আদায় করেন।
নামাজে ইমামতি করেন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ ওবায়দুল্লাহ। নামাজ শেষে তিনি বলেন, আমরা ৯৫ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ভ্রমণে এসেছি। কক্সবাজার পৌঁছে হোটেলে ব্যাগ রেখে লাবণী পয়েন্টে যাই। সমুদ্রে গোসল ও খেলাধুলার পর জোহরের সময় হলে আমরা সবাই মিলে বালিয়াড়িতে জোহর ও আসরের সফর নামাজ আদায় করি।
সমুদ্রতীরে নামাজ আদায়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, সমুদ্রের বিশালতার সামনে নামাজ আদায় করে গভীর প্রশান্তি অনুভব করেছি।
মাদ্রাসার প্রধান মোহাম্মদ সালিমুল্লাহ বলেন, আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে ভ্রমণ করে তার নিদর্শনসমূহ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। সমুদ্রও তার একটি বড় নিদর্শন। সেই উপলব্ধি থেকেই আমরা এখানে এসেছি এবং সময়মতো নামাজ আদায় করেছি।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বাতাসের গতি বেড়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রস্নান থেকে বিরত রাখতে লাইফগার্ড কর্মীরা সতর্কতামূলক বাঁশি বাজাচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করেছেন।