Image description

তীব্র গরমের পর টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এই স্বস্তির মধ্যেই বাড়ছে নতুন দুশ্চিন্তা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব ও বজ্রপাতের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

 

ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচুয়ানের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ এক ফেসবুক পোস্টে জানান, অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ওপর অস্বাভাবিক মাত্রায় বজ্রপাত হয়েছে, যা তার অভিজ্ঞতায় বিরল।

 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেওয়া এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, বজ্রমেঘের সক্রিয়তার কারণে মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ভারী (৪৪–৮৮ মিমি) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিমির বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি শুধু প্রাণহানিই ঘটায় না, শরীরে গুরুতর আঘাতও করতে পারে। যেমন তীব্র ব্যথা, হাড় ভাঙা, শ্রবণ সমস্যা, খিঁচুনি, দগ্ধ হওয়া, চোখে সমস্যা এমনকি হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

 

 

কেন বাড়ছে বজ্রপাত?

এই সময়ে তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন, আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং মেঘের মধ্যে শক্তিশালী ঘর্ষণের কারণে বজ্রপাতের প্রবণতা বেড়ে যায়। কালবৈশাখী মৌসুমে এ ধরনের ঘটনা বেশি দেখা যায়।

 

নিরাপদ থাকাতে যা করবেন

ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে দ্রুত শক্ত ও পাকা ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিন। যদি বাইরে থাকেন, সম্পূর্ণ বন্ধ গাড়িও তুলনামূলক নিরাপদ হতে পারে। খোলা মাঠ, টিনের ঘর বা অস্থায়ী আশ্রয় থেকে দূরে থাকুন।

 

ঝড়ের সময় বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো খুবই বিপজ্জনক। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু গাছে পড়ে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে থাকা মানুষকে আঘাত করতে পারে।

 

শিশুদের আগে থেকেই সচেতন করা জরুরি। বজ্রপাত হলে কী করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে—এসব বিষয় তাদের সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে।

 

ঘরের ভেতরেও সতর্ক থাকতে হবে। জানালা ও দরজা থেকে দূরে থাকুন। বজ্রপাত সরাসরি ভবনে না পড়লেও এর বৈদ্যুতিক প্রভাব ভেতরে ছড়িয়ে যেতে পারে।

 

বজ্রপাতের সময় পানি থেকে দূরে থাকুন। নদী, পুকুর, সুইমিং পুল বা ভেজা জায়গা বিদ্যুৎ পরিবাহিত করে, ফলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

 

এই সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করাই ভালো। তারযুক্ত ফোন, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহারে ঝুঁকি থাকে।

 

লোহার খুঁটি, বেড়া, ছাতা বা যে কোনো ধাতব জিনিস থেকে দূরে থাকুন। এগুলো বিদ্যুৎ সহজে পরিবাহিত করে।

 

ঝড় থেমে গেলেও তাড়াহুড়া করে বাইরে বের হবেন না। শেষ বজ্রধ্বনির অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে বের হওয়াই নিরাপদ।

 

বজ্রপাতকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। একটু সচেতনতা ও সতর্কতা জীবন বাঁচাতে পারে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে চলুন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নিরাপদ স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।