নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শাকিল মাহমুদ নামে এক যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তাহেরপুর গ্রামের বাহারের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গুলিবিদ্ধ শাকিল উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির আলমগীরের ছেলে। তিনি একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী।
আহতরা হলেন মো.আলাউদ্দিন, মহর আলী ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, তাদের ছেলে মাহফুজুর রহমান, মেয়ে নাসরিন আক্তার এবং আলমগীর হোসেন ও মো. জহির।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন স্থানীয় এক জামায়াত সমর্থকের ছেলেকে মারধর করেন এক বিএনপি কর্মী। এর জেরে সোমবার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের আনন্দ মিছেলে যাওয়ার পথে ওই বিএনপির কর্মীকে মারধর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই বিএনপি কর্মীকে মারধরের জেরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে ছোড়া অতর্কিত গুলিতে বিদ্ধ হন শাকিল। তাকে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন বলেন, এটা বিএনপি-বিএনপি করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের দলের কোনো লোক এই হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।
এ বিষয়ে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জামায়াতের লোকজন আমাদের মিছিলে হামলা করেছে। আমাদের দলীয় কোনো কোন্দলের বিষয় নেই এখানে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।