Ali Ahmad Mabrur (আলী আহমদ মাবরুর)
প্রতিপক্ষ দলে ভাঙ্গন সৃষ্টি করার কৌশল বিজেপির দিক থেকে নতুন কিছু নয়। এর আগে মহারাষ্ট্রসহ নানা অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছিল তারা। ইডি বা সিবিআই এর মাধ্যমে দৌড়ের ওপর রেখে সাংসদদের দল ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে অনেকবার। মূখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার মতো পর্যাপ্ত সদস্য কিনে নিয়ে তাদের দিয়ে একাধিক রাজ্যে সরকার পাল্টে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।
সবশেষে আম আদমি পার্টির ওপর তারা চড়াও হয়েছে। আম আদমি থেকে মনোনয়ন পাওয়া রাজ্য সভার ৭ জন সদস্য বিজেপিতে যোগ দেয়ার পর আম আদমি দলেই বড়ো ধরনের ভাঙ্গন যেন অত্যাসন্ন হয়ে উঠেছে। ভারতের প্রসঙ্গ এখানে আনার মূল কারণ হলো, গ্লোবাল রাজনীতির একটি ট্রেন্ড আছে। যার প্রভাব বিভিন্ন দেশে প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশে এ ধরনের দল ভাঙ্গার ঘটনা প্রকাশ্যে না ঘটলেও অতীতে বিভিন্ন জোটে থাকা অবস্থায় ছোট দলগুলো কয়েক টুকরো হয়েছে। আবার জোটের বড়ো দল সেই টুকরোগুলোর কোনোটিকে বাদ না দিয়েই সবগুলোকে নিয়েই চলেছে। এ কারণে, কেউ কেউ এমনও মনে করেন যে, ছোট দলগুলোর ভেঙে যাওয়ার নেপথ্যে বড়ো দলের হাত থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো দল নিজেদের ভাঙ্গনের নেপথ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন এজেন্সিকেও নানা সময়ে দায়ী করেছেন।
ভারতে যেহেতু এমপি বা নেতা কেনা বেচা বা চাপের মুখে ফেলে দল থেকে ভাগিয়ে নেয়ার একটি প্রবণতা আছে; এই ট্রেন্ড বাংলাদেশে শুরু হয় কিনা তা নিয়ে আশংকা রয়েই যায়। কখনো হয়নি বলে হবেও না- এমনটাও মনে করার কারণ নেই। এমপি হওয়ার সময় নানা বিষয় বিবেচনায় নেয়া হলেও দলীয় ইন্টেগরিটির বিষয়টি আসলে পরিমাপ করা হয় না; আর তেমন কোনো সুযোগও নেই। ক্রাইসিস না আসলে কে দলে থাকবে আর কে চলে যাবে- তা নিশ্চিত করে বলাও যায় না।
আমাদের বর্তমান স্পিকার বা সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মতো লোকও এই ফাঁদে পড়েছিলেন- এটি সবারই জানা। আমার ধারনা, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মেরুকরণ হবে। বিশেষ করে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের উত্থানে যারা অস্বস্তিবোধ করছেন; তারা ভবিষ্যতের রাজনীতির শেইপ বদলানোর জন্য অনেক কিছুই করতে পারেন।