রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (এমপিও) অনাকাক্সিক্ষত দৌরাত্ম্য ও দাপট চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হাসপাতালের ভিতরে তাদের অবস্থান ও প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানির ঘটনায় প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। কর্তৃপক্ষের ঢিলেঢালা নজরদারির সুযোগে প্রতিদিন সকাল থেকেই পুরো হাসপাতাল এলাকা প্রতিনিধিদের দখলে চলে যায়।
সরেজমিনে মুগদা হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিনিধি ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছেন।
প্রেসক্রিপশন নিয়ে হেনস্তা : সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় চিকিৎসক দেখিয়ে রোগী বের হওয়ার পর। কক্ষের বাইরে কিংবা গেটের সামনে ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন প্রতিনিধি একযোগে রোগীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
উত্তর মুগদা থেকে আসা ভুক্তভোগী রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে বের হওয়ার পর যদি চার-পাঁচজন মিলে কাগজ কেড়ে নিতে চায়, তখন খুবই বিরক্ত লাগে। এরা কি মানুষ নাকি অন্য কিছু? ডাক্তার কোন ওষুধ লিখল সেটা তাদের দেখার কাজ কেন?
নির্দেশনা শুধু কাগজে-কলমে : হাসপাতালের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি।
জানতে চাইলে মুগদা মেডিক্যাল হাসপাতালের ডা. উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আসার জন্য আমরা নিদিষ্ট দিন ঠিক করে দিয়েছি। কিন্তু এর বাইরেও তারা রোগীর আত্মীয়স্বজন হিসেবে এবং বিভিন্ন অজুহাতে আসে। আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে আটক করি এবং পরে অঙ্গীকার নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, রোগীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং কেউ প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিতে চাইলে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মীদের জানানো উচিত।