Image description

আমন্ত্রণ না পাওয়ায় নিজের বিদ্যাপীঠে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় শিক্ষকদের দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকরা ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করতে এগিয়ে আসেন। তিনি তা গ্রহণ না করে বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছিলাম দেখি স্কুল থেকে আমাকে ডাকে কিনা? কেউ ডাকে নাই। আমি নিজেই প্রোগ্রাম দিয়েছি। অতএব, আপনারা আমাকে পাননি, আমিই আপনাদের কাছে আসছি।’

পরে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বসেন ডেপুটি স্পিকার। সেখানে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তিনি নানা অসংগতি তুলে ধরেন। ২৮টি পদের বিপরীতে মাত্র ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার বিষয়টি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও কেন স্থায়ী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং কেন বিষয়টি যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়নি।

নিজেকে এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে সরাসরি ডিমান্ড নোটিশ পাঠানো সমন্বয়ের অভাবের পরিচয়। আমি ১৭ তারিখ শপথ নিলাম, আর আপনারা আমাকে না জানিয়ে ডিমান্ড নোটিশ পাঠিয়ে দিলেন!’ শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ফুল নিয়ে বাড়িতে চলে যান। আমি সেই ধরনের এমপি নই।’
সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষার ওপর জোর দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, শিক্ষকতা সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা। নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। কোনো দলীয় নেতার কাছে ধরনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, নিজেদের সম্মান নিজেদেরই তৈরি করতে হবে।