Image description

বান্দরবানের টংকাবতীর একটি রাবার বাগান থেকে অপহৃত ছয় শ্রমিকের সবাই মুক্তি পেয়েছেন।

আজ শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে আসেন রাবার শ্রমিকরা।

রাবার শ্রমিকরা হচ্ছেন-মো. ইসমাইল, মো. আরাফাত, মো. শফিক, মো. নুরুল আফসার, মো. কলিমুল্লাহ এবং মো. রমিত।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজ জানান, ‘সেনাবাহিনীর অব্যাহত অভিযানে টিকতে না পেরে শ্রমিকদের ছেড়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীর। ওই এলাকা থেকে ম্যাংতাং ম্রো (৩০) নামে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে তারা। পরে তাকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিনগত রাত পৌনে ১২টায় টংকাবতী হাতীর ডেড়া এলাকার ইসমাইলের রাবার বাগান থেকে শ্রমিকদের ধরে নিয়ে যায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা।

ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান টংকাবতী পুলিশ ফাঁড়ি ও বান্দরবান সদর থানার পুলিশ সদস্যরা। পরে বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু করে সেনাসদস্যরা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার ভোর থেকেই সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম সম্ভাব্য এলাকা সমুহ ঘিরে তল্লাশী অভিযান শুরু করে। এই অভিযান চলাকালে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে অভিযাত্রিক দল একটি পাহাড় ঘিরে ফেললে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। তখন জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে আসেন অপহৃত রাবার শ্রমিকরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে শ্রমিকদেরকে।

রাবার বাগানের মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, একটি আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তিনি তা দিতে সম্মত না হওয়ায় এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে।

তিনি জানান, অপহরণের পর থেকে পরিচয় গোপণ রেখে ২০লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সন্ত্রাসীরা।

তবে শ্রমিকদের মুক্তির বিনিময়ে কোন মুক্তিপণ দিতে হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।