Image description

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার ভুক্তভোগীরা আজও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে কিছু সহায়তা পেলেও তা ছিল মূলত মানবিক সাহায্য, আইনি ক্ষতিপূরণ নয়—এমনটাই বলছেন শ্রম অধিকারকর্মীরা।

তবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। তবে ক্ষতিপূরণের পর্যাপ্ততা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

তার মতে, বাংলাদেশের শ্রম আইনে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ‘খুবই সীমিত’ হলেও রানা প্লাজার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা এসেছে।

ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের জানা মতে, নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকসহ ক্ষতিগ্রস্তরা আইনি ন্যূনতমের চেয়েও বেশি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।”

তবে ‘যথাযথ’ ক্ষতিপূরণ বলতে কী বোঝায়, তা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে শ্রমিকের সারা জীবনের সম্ভাব্য আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিন্তু বিজিএমইএ সভাপতি মনে করেন, ‘‘এমন হিসাব বাস্তবসম্মত নয়।’’

তিনি বলেন, “গাণিতিকভাবে বিষয়টি সঠিক হতে পারে, কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকরা সাধারণত ৬০ বছর পর্যন্ত এই খাতে কাজ করেন না। বেশিরভাগ ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে কাজ ছেড়ে দেন, আর নারীরা আরও আগেই বেরিয়ে যান।” এই বাস্তবতার কারণে এমন হিসাব প্রয়োগে জটিলতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া থেকে কিছু ভুক্তভোগী বাদ পড়েছেন—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন মাহমুদ হাসান খান। তিনি জানান, এত বড় একটি দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ বণ্টন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই জটিল।

তবে তিনি বলেন, ‘‘পৃথকভাবে অভিযোগ পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।’’

তার ভাষ্য, “যদি কেউ মনে করেন তিনি বাদ পড়েছেন, তাহলে ওই ভবনে কর্মরত থাকার প্রমাণসহ সামনে আসুন। আমরা বিষয়টি দেখবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।”

কিছু ঘাটতি থাকতে পারে স্বীকার করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’’ সে সময়ের প্রেক্ষাপট ও প্রক্রিয়া অনুযায়ীই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।