কলেজের দেয়ালে লেখা ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্র শব্দ মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের। দেয়ালে ‘গুপ্তরাজনীতি নিষিদ্ধ’ লেখা দেখে ক্ষুব্ধ শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে ফেসবুকে কয়েক দিন ধরে চলে পাল্টাপাল্টি পোস্ট ও কমেন্ট।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে মারামারিতে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এতে উভয়পক্ষে আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির। মিছিল শুরু হয় নগরীর নিউ মার্কেট মোড় থেকে।
ক্যাম্পাসে চিকা-ব্যানার টানানো ও ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মারামারিতে জড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, দেয়ালে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’। ছাত্র মুছে গুপ্ত লিখে দেওয়ায় বিরোধ হয় ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে। ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ব্যানার দিয়েছে ছাত্রদল। এর প্রতিবাদ জানায় ছাত্রশিবির। ফেসবুকে করে সমালোচনা। উত্তেজনাটা মূলত সেখান থেকে শুরু।
‘আজ আমরা অফিসে বসেছিলাম। হঠাৎ দেখলাম মূল ফটকের ভেতরে হট্টগোল। দেখলাম, মারামারি করছে শিবির ও ছাত্রদল। আমরা নিচে গিয়ে চেষ্টা করি থামাতে। পরে পুলিশকে জানাই ঘটনা। তারা এসে উভয়পক্ষকে বের করে দেয় কলেজ ফটকের বাইরে। ঝামেলা ছিল ১৫-২০ মিনিটের মতো। দেখলাম, ৪-৫ জনকে ধরাধরি করে নিয়ে যেতে। মনে হলো, গুরুতরভাবে কেউ আহত হয়নি’— বললেন উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন আহমেদ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় দিবা ও বৈকালিক শাখায় পরীক্ষা অব্যাহত রেখে বাতিল করা হয়েছে সব ধরনের ক্লাস। জানান, উপাধ্যক্ষ।
সদরঘাট থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেছেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। তখন বন্ধ হয়েছে মারামারি। তবে ফটকের ভেতরেই ছিল দুই পক্ষ। আমরা ঢোকার পর তারা যে যার যার মতো চলে যায়। এখন সমস্যা নেই।’
কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিকী রনির ভাষ্য, মারামারি হয়েছে ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে। আমাদের কয়েকজন নেতার ছবিসহ বিশ্রি ভাষায় কয়েকটা পোস্ট দিয়েছে শিবিরের এক ছেলে। সেগুলো ভাইরাল হয়। বিষয়টি সমাধানে শিবিরের ওই ছেলেকে দেখা করতে বলে, আমাদের কয়েকজন জুনিয়র। কিন্তু ওই ছেলের পরিবর্তে আসেন কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি মিশকাত। তার সঙ্গে ছিল আরও কয়েকজন। আমাদের ছেলেরা বলে, যে পোস্ট দিয়েছে সে আসেনি, আপনি কেন এলেন? তখনই শুরু হয় মারামারি।’
শিবিরের হামলায় ছাত্রদলকর্মী ও স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র নাজিম উদ্দিনসহ দুজন আহত হয়েছেন বলে জানান সোহেল।
ঘটনার বিষয়ে জানতে সিটি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এইচ এম মিশকাতকে কয়েকবার ফোন দিয়েও মেলেনি সাড়া।
জাহিদুল আলম জয় নামে মহানগর ছাত্রশিবিরের এক নেতার অভিযোগ, ছাত্রদলের হামলায় তাদের পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মী আহত।