কুমিল্লার লাকসামে পড়াশোনার জন্য মায়ের বকুনি খেয়ে অভিমানে সিনথিয়া উদ্দিন (১৪) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) লাকসামের একটি ভাড়া বাসা থেকে এ ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সিনথিয়া লালমাই উপজেলার সিংঙ্গরিয়া গ্রামের শাহাবুদ্দিনের মেয়ে। তিনি লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে ‘চাচা-ভাতিজা ভিলা’ নামে একটি ভাড়া বাসার চতুর্থ তলায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত সিনথিয়া। ঘটনার দিন সকারে ৮টার দিকে কক্ষের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় তার মা অনেক ডাকাডাকি করেন, কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেতে পান।
একটি সূত্রে জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় তার মা তাকে ঠিকভাবে পড়াশোনার তাগিদ দেন এবং অহেতুক বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা না দেওয়ার জন্য একটু বকাঝকা করেন। এতে সে অভিমানে তার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।
এদিকে সিনথিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সহপাঠীরা তার বাসায় যায়। পরে মরদেহ নিজ বিদ্যাপীঠ লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আনা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সিনথিয়ার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
এ ব্যাপারে লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দিলিপ কুমার ভৌমিক জানান, বিদ্যালয়ে যতটুকু দেখেছি, সিনথিয়া অনেকটা চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে ছিল। কিন্তু সে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটাবে ভাবতেই অবাক লাগে। ঘটনাটি একদম অনাকাঙ্ক্ষিত।
সিনথিয়ার মা খালেদা আক্তার জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। সিনথিয়া একমাত্র মেয়ে। এ ছাড়া, তার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সন্তানদের পড়ালেখা ও নিজের চাকুরির সুবাদে লাকসামে বাসা ভাড়া করে থাকেন তিনি। কিন্তু মেয়ে এমন ঘটনা ঘটাবে একথা ভাবতেই পারছি না, বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’