Image description

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দেড় মাস বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে তার।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এদিন দুপুর ২টার দিকে তাকে হাজির করা হয় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।

আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন আসামি। এ বিষয়ে পাওয়া গেছে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭ টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এরপর করা হয়েছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।

আবেদন বলা হয়, আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে তদন্তে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।

এসময় জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের পুত্র সন্তান রয়েছে। সিজার করা হয়েছিল তার। যেকোন শর্তে আসামির জামিন প্রার্থনা করছি।

শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বিকাল ৩টা ১২ মিনিটে আদালত থেকে বের করা হয় তাকে। এসময় আদালতের চতুর্থ তলায় কাঁদতে থাকেন তিনি। পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সী সন্তান। এসময় আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসিয়ে সন্তানবে দুধ খাওয়ান তিনি। পরে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আসামি শিল্পীকে নেওয়া হয় আদালতের হাজতখানায়। এসময় কাঁদতে থাকেন তিনি। আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ যেতে হচ্ছে কারাগারে৷’

মামলা অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকাল ৫ টার দিকে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য৷

চিকিৎসা চলাকালীন ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী হামলা করেন তাদের ওপর। পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাত ১২০-১৩০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে হামলা চালায় ওই শিক্ষার্থীর বাসায়।

তারা আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এতে ক্ষতি হয় পাঁচ লাখ টাকার। বাসা থেকে লুটপাট করা হয় তিন লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল। বাসার সামনে রাস্তার ওপর করা হয় বোমা বিস্ফোরণ।

আসামি শিল্পী ও অন্যান্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর পিতা মো. সোহেল রানাকেও করেন এলোপাতাড়ি মারধর। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মামলা দায়ের করা হয় তেজগাঁও থানায়।