ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ফাহমিদা হক। বিএনপির পক্ষ থেকে ফাহমিদা হকের মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুললেন সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। তার মতে, সংরক্ষিত আসনে তার স্ত্রীর মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতারই একটি নতুন অধ্যায়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট তার প্রতিক্রিয়ায় এমন দাবি করেন।
জিল্লুর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী ফাহমিদা হক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অনেক বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। সে কারণেই সংক্ষেপে আমার কিছু কথা জানানো প্রয়োজন মনে করছি।
ফাহমিদা হকের জনসম্পৃক্ততা আজকের বিষয় নয় জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লেখালেখি, সামাজিক উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত আছেন। তিনি দেশজুড়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, নানা সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং তার লেখার মাধ্যমে জনপরিসরের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ফাহমিদা হকের রাজনীতি ও জনজীবনের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে বলে জানান জিল্লুর রহমান। সংসদ সদস্য হিসেবে তার নির্বাচন দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতারই একটি নতুন অধ্যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফাহমিদা হকের প্রতি আশা প্রকাশ করে জনপ্রিয় এ উপস্থাপক বলেন, তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আলোচনায় ইতিবাচক অবদান রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই। আমার পেশাগত জীবন— একজন সাংবাদিক, কলামিস্ট, টকশো উপস্থাপক এবং একটি নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে— দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বাধীন পেশাগত কাজের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। সেই পেশাগত দায়িত্ব ও অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
সিজিএস প্রেসিডেন্ট বলেন, গণতন্ত্রে একই পরিবারের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন জনভূমিকা পালন করতে পারেন, কিন্তু পেশাগত সততা সব সময় স্বাধীন থাকতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং উন্মুক্ত জনআলোচনার প্রতি প্রতিশ্রুতিই আমার কাজকে পরিচালিত করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
স্ত্রীর সাফল্য কামনা করে তিনি আরও বলেন, ফাহমিদার নতুন দায়িত্ব পালনে আমি তার সাফল্য কামনা করি। আর আমার ক্ষেত্রে, সাংবাদিকতা ও নীতি-আলোচনার ক্ষেত্রে যে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এতদিন কাজ করেছি, সেই একই নীতিতে আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব।
উল্লেখ্য, জিল্লুর রহমান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক। তার স্ত্রী ফাহমিদা হক সিজিএসের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য বা বোর্ড অব ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বরত। এছাড়াও তিনি বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন।