Image description

বৈশাখের শুরুতেই কাঠফাটা রোদে পুড়ছে দেশ। ভ্যাপসা গরমে ত্রাহি দশা। এরই মধ্যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, জুলাই-আগস্টের মধ্যেই প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া এল নিনো সক্রিয় হবে। ইঙ্গিত মিলছে, এটি হতে পারে সুপার এল নিনো। এর প্রভাব শুরু হতে পারে আরও আগে থেকেই। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল ২০২৪ সাল। এল নিনোর প্রভাবে সেবছর এপ্রিলে তাপমাত্রা ছিল ৭৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশে টানা ৩৫ দিন তাপপ্রবাহ চলে। ওই ৩৫ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। এবারও তাপমাত্রার চোখ রাঙানি দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। এতে গরমের অনুভূতি আগের চেয়ে বেশি হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে যেমন তাপপ্রবাহ ছিল, এবার তা নাও হতে পারে।

এদিকে গ্রীষ্মের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা) বিদ্যুতের চাহিদা পৌঁছাচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটে। তবে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না থাকায় প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে লোডশেডিং। এ পরিস্থিতিতে শহরাঞ্চলে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও গ্রাম ও মফস্বল এলাকাগুলোয় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোথাও কোথাও দিনে ৫-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে সারা দেশে দুই থেকে চারটি মৃদু ও এক থেকে দুইটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে।

তখন কোথাও কোথাও ৪০-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঈশ্বরদী, বদলগাছী ও রাজশাহীতে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, এপ্রিল-জুনের মাঝে দেশে ছয় থেকে আটটি মৃদু এবং তিন থেকে চারটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

কোনো এলাকায় যদি তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তাহলে তাকে বলে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা যখন ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তাকে বলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে।

বাংলাদেশে এপ্রিল মাসকে বলা হয় সবচেয়ে উষ্ণ মাস। আগে মার্চ থেকে মে মাস ছিল তাপপ্রবাহের সময়; কিন্তু মানবসৃষ্ট কারণে এখন মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকে। বিগত কয়েক বছরে বর্ষাকালেও গরমের তীব্রতা দেখা গেছে। সাধারণত এপ্রিল মাসে গড়ে ৯ দিন বজ্রঝড় হয় এবং মে মাসে হয় ১৩ দিন। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এ বছর গরম পড়লেও তা ২০২৪ সালের মতো তীব্র হবে না। কারণ হিসেবে বলেছেন, এ বছর বজ্রঝড় বেশি হবে। ২০২৪ সালে বজ্রঝড়ের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় গত ৭৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে তীব্র গরম পড়েছিল বাংলাদেশে।

সাধারণত দেশে এপ্রিল মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর মে মাসের গড় তাপমাত্রা ৩২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মার্চ মাসে ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এগুলো এই তিন মাসের স্বাভাবিক তাপমাত্রা, যা মূলত ১৯৯১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত—মোট ৩০ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড়।

এ বছর মার্চে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে গরম তীব্র না হলেও এপ্রিলে বৈশাখের শুরুতেই তাপপ্রবাহের দাপট টের পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কাগজে-কলমে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মিলে গ্রীষ্মকাল থাকলেও মূলত গরমের সময়টা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বৈশ্বিক আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এল নিনো ও লা নিনার প্রভাব আছে। এগুলো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর বাতাসের ধরন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি অনিয়মিত কিন্তু পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন। এল নিনো বলতে বায়ুপ্রবাহের উষ্ণ পর্যায়কে বোঝায়। অন্যদিকে লা নিনা বোঝায় এর শীতল পর্যায়কে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছিল। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার অঞ্চলে বৃষ্টি কমে যায়। ফলে তাপমাত্রা বেড়ে খরাও দেখা দেয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস ও বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের মার্চ-মে সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য-পূর্ব অংশে এনসো-নিরপেক্ষ অবস্থার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে, জুলাই মাসের শেষে কিংবা আগস্টের শুরুতে এল নিনো সক্রিয় হতে পারে। তবে এল নিনো ঠিক কত দিন স্থায়ী হবে, তা বলা কঠিন। সাধারণত এটি ২ থেকে ৩ মাস সক্রিয় থাকে। কখনো কখনো ৬ মাস, এমনকি ১০ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে এর প্রভাব।

বৈশ্বিক উষ্ণতা দ্রুত বাড়তে থাকায় তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ক্রমেই ওপরে উঠে আসছে বাংলাদেশ। নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রভাবে ইতোমধ্যে দেশের কোটি মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশের বড় অংশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চল ধীরে ধীরে এমন অবস্থার দিকে যাচ্ছে, যেখানে তাপ ও আর্দ্রতার যৌথ প্রভাবে মানুষের বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত জলবায়ু এরই মধ্যে ভয়ানক পরিণতি ডেকে এনেছে। খরতাপ একে একে ভেঙেছে অতীতের অনেক রেকর্ড। প্রবল গরমে জীবন ও সম্পদের বড় ক্ষতি হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালে নিভে গেছে শতাধিক প্রাণ। বিপর্যয়ে পড়েছে কৃষি, নেমেছে পানির স্তর। বেঁকে গেছে রেলপথ, বিটুমিন উঠে এবড়োখেবড়ো সড়ক। দীর্ঘমেয়াদি হুমকিতে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।

জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ কালবেলাকে বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ওইরকম গরম পড়বে না। আগামী তিন-চার দিন একটু তাপমাত্রা বাড়বে। এ সময় মাঝারি তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। চলতি মাসের শেষের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বর্ষার আগ পর্যন্ত গরম পড়বে। ২০২৪ সালে যেমন টানা ৩৫ দিন তাপপ্রবাহ ছিল, এবার সেরকম শঙ্কা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এল নিনো এবং লা নিনা বৈশ্বিক আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশে এর সরাসরি প্রভাব না থাকলেও বৈশ্বিকভাবে প্রভাব পড়তে দেখা যায়। মে-জুন মাসে যদি এল নিনো শক্তিশালী হতে শুরু করে, তাহলে বৃষ্টিপাতের প্যাটার্ন প্রভাবিত হবে। মৌসুমি তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে ঘন ঘন তাপপ্রবাহ আসবে। এরই মধ্যে আমরা বৈশ্বিক প্রভাব দেখছি। বর্ষা দেরিতে আসছে, রেইন স্কেল কমে যাচ্ছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্ক এরকম যে—এল নিনো সক্রিয় অবস্থায় থাকলে সে বছর দেশে তাপমাত্রা একটু বেশিই হয়। এবার এল নিনো সক্রিয় হতে আরও একটু সময় লাগবে। এতে সারা পৃথিবী একটু উষ্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি দেশে স্বল্প সময় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টিপাত কমে খরা বাড়তে পারে এবং বর্ষাকালের বৃষ্টি একটু কমে যেতে পারে। তবে আতঙ্কের কিছুই নেই। এগুলোকে বলা হয় ক্লাইমেট ফ্যাক্টর।’

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে যেহেতু এল নিনো উষ্ণতাকে প্রতিনিধিত্ব করে, সে কারণে বাংলাদেশে ছোঁয়া লাগতে পারে। বর্ষাকালে গরমের অনুভূতির তীব্রতা বাড়তে পারে। এ সময় বিশেষ করে জুন, জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যেতে পারে।’

লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বাড়ছেই:

এদিকে গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভোগান্তি বেড়েছে। তবে শহরে তুলনামূলক কম লোডশেডিং হচ্ছে—এক থেকে দেড় ঘণ্টা। গ্রামে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। সরকারি তথ্যমতে, লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে কয়লার স্বল্পতা। এতে বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম আসছে। এ ছাড়া নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসা বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার দ্বিগুণ হলেও ঘাটতি মেটাতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলাতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। তবে এই লোড সমভাবে বণ্টন হচ্ছে না। রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতে নামমাত্র লোডশেডিং দিয়ে পল্লি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দেশে চলতি মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ চাহিদা পূরণে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন প্রয়োজন; কিন্তু এসব জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের বরাদ্দ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণ মূলত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সংকট এবং কিছু কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। যদিও এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণ মূলত কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট (মেশিন) রক্ষণাবেক্ষণে ছিল। এর মধ্যে আদানির একটি ও রামপালের দুটি। বর্তমানে তিনটি ইউনিটই উৎপাদনে এসেছে। তবে এসএস পাওয়ার ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সংকট রয়েছে। এর বাইরে যুদ্ধের কারণে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোয় পর্যাপ্ত জ্বালানির সংস্থান নেই। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও উৎপাদন সংকটে রয়েছে। এসব কারণ মূলত বিদ্যুতের সংকট। পরিস্থিতি আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।’

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অব্যাহত থাকায় লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুর বিভাগে লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সহনীয়। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় পল্লি মানুষের জীবনে নেমে এসেছে ভয়ানক দুর্ভোগ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র শিল্প ও বাণিজ্য।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দিনেরবেলায় বিদ্যুতের চাহিদার প্রাক্কলন ছিল ১৪ হাজার মেগাওয়াট। আর সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ১২ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ৪১৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। আর সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঘণ্টাভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধানে সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়েছে।

এ সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। ওইদিন ঘণ্টাপ্রতি বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধানে সর্বনিম্ন সাড়ে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়েছিল।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ কালবেলাকে বলেন, ‘গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুতি রয়েছে। এলাকাভিত্তিক চাহিদা এবং সরববরাহের মাঝখানে যে ঘাটতি, সেটি আগাম জানানো আর কোথাও যাতে অতিরিক্ত লোডশেডিং না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য জোনভিত্তিক কমিটি করে দেওয়া আছে তারা মনিটরিং করবে। একটি এলাকায় সর্বোচ্চ যতটুকু বিদ্যুৎ দেওয়া হবে, তা চাহিদার চেয়ে কম হলেই লোডশেডিং হয়। সেই লোডশেডিং যাতে কোনো এলাকায় অতিরিক্ত না হয়, সেটা যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা হচ্ছে কোনো এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি একনাগাড়ে যাতে লোডশেডিং না হয়, সে বিষয়টি তারা নিশ্চিত করবে। আগের দিন আগাম জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে যে উল্লিখিত এলাকাতে ওই সময়টাতে লোডশেডিং থাকবে। সেটা মাইকিং করা হতে পারে। বর্তমানে ওয়েবসাইটে দেওয়া হচ্ছে। আর লোডশেডিংয়ের বাইরে কারিগরি ত্রুটি বা আবহাওয়া খারাপ থাকলে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ বন্ধ করতে হয়। মূলত লোডশেডিং হচ্ছে রেগুলার ম্যানেজমেন্ট। কোনো পাওয়ার প্লান্টে যদি হঠাৎ করে কোনো কারণে বন্ধ করে তখন স্বাভাবিকভাবে টোটাল সাপ্লাই কমে যায়। তখন আমরা ওই সিডিউলটাকে মেইনটেইন করতে পারি না।’