দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো প্রকল্প বর্তমান সরকার গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সবসময় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার বর্তমানে সেই প্রস্তাবটি গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বন্দরের স্বার্থ, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার এবং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখা হবে।
তিনি বলেন, এনসিটি একটি সচল ও গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল, যা সময়ের সঙ্গে উন্নত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—এর সক্ষমতা আমরা নিজেরা বাড়াবো নাকি বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনা করবো। এ বিষয়ে সকল দিক বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
নৌমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশি অপারেটরকে দায়িত্ব দিলে দেশের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থান রক্ষাও সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, অতীতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ও শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। তাই এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার চাইলে উন্মুক্ত দরপত্র, জিটুজি বা ডিপিএম—সব ধরনের বৈধ পদ্ধতিই অনুসরণ করতে পারে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবটি বর্তমানে জিটুজি পদ্ধতিতে বিবেচনায় রয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা না হলে উন্মুক্ত দরপত্রে যাওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এনসিটি পরিচালনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। একই সঙ্গে অতীতে বন্দরকে ঘিরে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।
নৌমন্ত্রী বলেন, “বন্দরের নামে অপচয় ও লুটপাটের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও তদন্ত করে দেখা হবে। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্রকে বন্দর নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হবে না।”
শীর্ষনিউজ