Image description

ঝিনাইদহের মহেশপুরের সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে রতিকান্ত জয়ধর (৪৬) নামের এক বাংলাদেশির মরদেহ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে মহেশপুর থানা পুলিশ। রতিকান্ত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে তিনি অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা। 

পারিবারিক সূত্র জানায়, আট বছর আগে রতিকান্ত জয়ধরের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর (৪০) তাঁর স্বামীর সম্মতিতে চার সন্তান– রতন জয়ধর (২২), নয়ন জয়ধর (১৫), রত্না জয়ধর (১৮) ও রিয়া জয়ধরকে (১২) নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরে চলে যান। রতিকান্ত কয়েকবার তাদের কাছে বেড়াতে কলকাতায়ও গেছেন। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে টাকাপয়সা নিয়ে রতিকান্ত জয়ধর বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা থেকে তাঁর ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধরকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। রাতেই মহেশপুরে গিয়ে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন রণজিৎ।

এ বিষয়ে রণজিৎ জয়ধর বলেন, কলকাতায় যাওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার সকালে তাঁর ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তবে তিনি কার সঙ্গে কোন পথে কলকাতায় যাবেন, সেটি জানাননি। বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা পুলিশের মাধ্যমে ভাই রতিকান্তের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।  ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে এনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তারা। 
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসানের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে রতিকান্ত জয়ধরের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্টের সূত্রে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, রতিকান্ত জয়ধরের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা গুলি করেছে, সেটি শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করেন একই থানার এসআই আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, মরদেহের ঘাড়ের বাঁ পাশে, ডান পাশের পাঁজরের নিচে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এগুলো গুলির আঘাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন। এই কর্মকর্তা মনে করছেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে তিনি পানিতে পড়ে মারা যেতে পারেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী ইছামতী নদীতীরে দুর্গন্ধ পান। পরে তারা কচুরিপানার নিচে ভাসমান মরদেহটি দেখতে পান। বিজিবি সদস্যরা নিশ্চিত হন, মরদেহটি বাংলাদেশের প্রায় ১০ গজ ভেতরে নদীতে ভাসছিল। পরে মহেশপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে।