লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে প্রাণ হারানো ১৮ বাংলাদেশির একজন শহীদুল ইসলামের খালাতো ভাই আলী আহমদ (২২)। ভয়াবহ এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন রোহান আহমেদ। ২৫ বছরের এই যুবকের মাধ্যমে শহীদুল জেনেছেন সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর বর্ণনা।
তিনি বলেন, ‘কাতার থেকে আমার এক ভাই গ্রিসে ফোন দিয়ে ঘটনার সব তথ্য সংগ্রহ করে। দিরাই উপজেলার রোহান নামের যে ছেলেটি জীবিত ফিরেছে, সে জানিয়েছে, গেমের (ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা) বোট ছাড়ার পর পথ হারিয়ে ফেলে। বোটে এক দালাল জসিমের শ্যালক ছিলেন। দুই দিনে পৌঁছানোর কথা; কিন্তু এর মধ্যে তিন দিন তিন রাত সাগরে ভাসতে ভাসতে না খেয়ে প্রথমে মারা যায় জসিমের শ্যালক। বোটের চালক লাশ সাগরে ফেলতে দেননি। পরে একে একে আরও কয়েকজন মারা যায়। এবার তাদের সবার লাশ সাগরে ফেলে দেয় অন্যরা।’
শহীদুল বলেন, ‘ক্ষুধার যন্ত্রণায় এবং বোটে থাকা জসিমের মরদেহের গন্ধে একসময় আমার খালাতো ভাই আলী মারা যায়। তখনও বোটে ছিল আমার এক ভাগনির জামাই নাঈম। সে আলীর মরদেহ ফেলার সময় কাঁদতে কাঁদতে বলে– আমি তোর লাশ ফেলে যাচ্ছি, তোর মা-বাবারে কী জবাব দেব রে! বোট তীরে পৌঁছানোর ঘণ্টা দুয়েক আগে নাঈমও মারা যায়। অথচ দালাল আজিজুল ফোন দিয়ে বলেছিল, সবাই পৌঁছে গেছে।’
এই বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদুল ইসলাম। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন দিরাই উপজেলার, পাঁচজন জগন্নাথপুর উপজেলার এবং একজন দোয়ারাবাজার উপজেলার। প্রথমে জানা গিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ১০ জন রয়েছেন। পরে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়। তারা হলেন– করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েক মিয়া ও বাসুরি গ্রামের সোহাস।
শহীদুল ছাড়াও নিহত অন্যদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দালাল আজিজুল ইসলাম এবং দুলাল মিয়ার কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
দালাল বলেছিল ‘গেম সাকসেস’
আজিজুলের বাড়ি জগ্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামে। তিনি লিবিয়ায় থাকেন। এলাকার যুবকদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠান আজিজুল। তার খপ্পরে পড়ে ভাইকে হারিয়েছেন ইছগাঁওয়ের শহীদুল। তিনি বলেন, ‘আজিজুলের মাধ্যমে অনেকে সাগরপথে গ্রিস-ইতালি গেছে। আমার আরেক ভাই তিন মাস আগে ১৩ লাখ টাকা চুক্তিতে গ্রিসে পৌঁছায়। গেম দেওয়ার আগে যাদের পাঠানো হবে, তাদের মধ্য থেকেই দুই-একজনকে বোট চালানো শেখানো হয় এবং ম্যাপ অনুসরণ করে বোট চালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ানো হয়। এই যাত্রায় আজিজুল বলেছিল, সবাইকে বড় বোটে ছাড়বে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে ফোন দিয়ে জানায়, বড় বোট হচ্ছে না, ছোট বোটে গেলেও সমস্যা হয় না। এরপর গেম দেওয়ায়। পরে আজিজুল ফোন দিয়ে জানায়, গেম সাকসেস হয়েছে।’
প্রাণহানির খবর জানাজানি হওয়ার পর গত শনিবার বিকেলে শহীদুলকে ফোন করেন আজিজুল। এ ঘটনায় তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘যা হওয়ার হয়েছে, সবই তকদিরে ছিল। আমারে মাফ করে দিও। যাদের দুর্ঘটনা ঘটছে, আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেব।’ শহীদুল বলেন, ‘এখন আর আজিজুলকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।’
আখলুছের স্বপ্ন ডুবল সাগরে
আজিজুলের পাল্লায় পড়ে ছেলে শায়েক আহমদ জনিকে (২৫) হারিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়া। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে সংসারের অভাব দূর করবেন, একটু সচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছে। মাত্র চার মাস আগে উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়েন শায়েক। দালালের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে কয়েকটি দেশ মাড়িয়ে পৌঁছান লিবিয়ায়। সৌদি আরব, কুয়েত, দুবাই ও মিসর পাড়ি দিয়ে তার এই যাত্রায় ছিল অনিশ্চয়তা। তবুও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় সব কষ্ট সহ্য করছিলেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর শুরু হয় অবর্ণনীয় কষ্ট। সেখান থেকে ইউরোপ যেতে অবৈধ সাগরপথে পাড়ি দেওয়ার জন্য আবারও সাড়ে সাত লাখ টাকা দাবি করে দালালরা। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করেন আখলুছ মিয়া।
গত ২০ মার্চ ছিল পরিবারের সঙ্গে শায়েকের শেষ কথা। ফোনের ওপারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি গেম ঘরে (যেসব জায়গায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রাখা হয়) অবর্ণনীয় নির্যাতনের কথা। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, মারধর আর অমানবিক পরিবেশে দিন কাটছে তাঁর। অসহায় কণ্ঠে বাবাকে অনুরোধ করেন, ২৩ মার্চের মধ্যে যদি গেম না হয়, তাহলে যেন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। না হলে তিনি আর বাঁচতে চান না।
শায়েকের স্বজন এবং পাশের ইছগাঁওয়ের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইছগাঁওয়ের মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজুল প্রায় ১০ ধরে লিবিয়ায় আছেন। জগন্নাথপুরসহ আশপাশের উপজেলা থেকে দেশে থাকা আরও কিছু দালালের মাধ্যমে মানব পাচার করেন তিনি। গ্রিস, ইতালি ও লিবিয়ায় যাওয়ার লোভে অনেকেই তাকে টাকা দিয়েছেন। কেউ যেতে পেরেছেন, কেউবা টাকা খুইয়েছেন। জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আজিজুলের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
‘তোমরা আমার ইমনকে আইনা দাও’
আলী ছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার নিহত অন্য যুবকরা হলেন– চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (২২), একই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২) ও পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের সাবেক শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬)।
গতকাল দুপুরে ইমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা আকি বেগম আহাজারি করছেন। তাঁর আহাজারি দেখে কাঁদছেন অন্য স্বজনরাও। আকি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে দালাল মেরে ফেলেছে, তোমরা আমার ইমনকে আইনা দাও।’
নাঈমের বাবা দুলন মিয়া বলেন, ‘আজিজুল ইসলামের সঙ্গে গ্রিসে পাঠানোর জন্য ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে জানুয়ারি মাসে লিবিয়া যায় আমার ছেলে। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর গেম দেওয়ার কথা বলে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে দালাল। দাবির টাকা পরিশোধ করার পরও গ্রিসে পাঠাতে টালবাহানা করে। অবশেষে ২১ মার্চ গেম দেওয়া হয়। কথা ছিল গেম দেওয়ার আগে আমাদের জানানো হবে। কিন্তু আমাদের জানানো হয়নি। শনিবার জানতে পারি, আমার ছেলে মারা গেছে।’
ইজাজুল জানিয়েছিলেন দালাল খাবার দিচ্ছে না
ইজাজুল হক রেজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এলাকার লোকজনের ভিড়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা ইজাজুলের পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ইজাজুলের বাবা সামছুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছাতকের শক্তিগাঁও গ্রামের দুলাল মিয়ার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তিন মাস আগে লিবিয়া যায় আমার ছেলে। সেখান থেকে গ্রিসে পাঠানোর কথা ছিল। সব টাকা পরিশোধ করা হলেও গ্রিসে পাঠানোতে কালক্ষেপণ করতে থাকে দালাল। আমার ছেলে ঈদের আগে ভয়েস কলে জানায়, দালাল খাবার দিচ্ছে না। বড় কষ্টে আছে। দোয়া করতে বলেছে। এরপর আমার ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি। আমরা দালালের সঙ্গে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারিনি। এখন শুনি আমার ছেলে মারা গেছে।’
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমার ইউনিয়নের একই গ্রামের দুই যুবক সাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারা গেছে। তাদের মৃত্যুতে পুরো গ্রামের মানুষ শোকাহত। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে দালাল চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে দিচ্ছে। তাদের ফাঁদে দেশের হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। দ্রুত সব দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
বাবার নিষেধ অমান্য করে মৃত্যুপুরীতে ময়না
দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২)। ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে বিপদসংকুল পথে পাড়ি জমিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবার জানায়, উন্নত জীবনের আশায় পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন ময়না। তবে সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের করুণ পরিণতি ডেকে আনে।
আবু সর্দার বলেন, ‘লিবিয়া যাওয়ার পর আমি তাকে দুইবার নিষেধ করেছিলাম যেন এভাবে ঝুঁকি না নেয়। কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেই সে এই পথে গেছে।’
নুরুজ্জামানের বড় ভাই হেলাল সর্দার বলেন, ‘গত ২২ মার্চ আমার ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়। সে জানায়, তারা সেদিনই নৌকায় উঠবে। পরে আমাদের গ্রামের একই নৌকার এক যাত্রী রোহান জানায়, আমার ভাই মারা গেছে।’
ফাহিম ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান
দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমের (২০) স্বপ্ন ছিল পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাবেন। বুকভরা আশা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর পরবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডুবেছে সাগরে। ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাহিম। তাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা-বাবা। হেলেনা বেগম বারবার বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার বুকের ধনকে আমি আর ফিরে পাব না, আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল।’
কাউকে না জানিয়ে লিবিয়া চলে যান আমিনুর
পাইলগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান তাঁর ছোট ভাই আমিনুর রহমানের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সে আমার ছোট। দালালের মাধ্যমে বিদেশ যেতে আমাদের পরিবারের কেউ রাজি হবে না বুঝতে পেরে কাউকে না জানিয়ে লিবিয়ায় চলে যায়। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক মাস আগে জানতে পারি সে লিবিয়ায়। সর্বশেষ ঈদের দিন আমার ভাই আব্বা-আম্মার সঙ্গে কথা বলেছে। এরপর আর কথা হয়নি। শনিবার আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারি।’
আব্দুল কাদির প্রাণে বাঁচলেও দুশ্চিন্তায় পরিবার
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন প্রতিনিধি জানান, সাগরপথে গ্রিসে যাত্রা করেছিলেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের যুবক আব্দুল কাদির (২৬)। তিনি উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পশ্চিম সাবিয়ানগর গ্ৰামের বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে থাকা ২২ জন প্রাণ হারালেও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন। বাড়িতে তাঁর মা, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।
আব্দুল কাদিরের মা আম্বিয়া বেগম জানান, বাড়ির জমি ও বাসস্থানের জায়গা বিক্রি করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ টাকা খরচ করে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তাঁকেসহ জীবিত কয়েকজনকে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আব্দুল কাদির প্রাণে বেঁচে ফিরলেও দুশ্চিন্তায় তাঁর পরিবার। জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে সংগ্রহ করা এত টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় আম্বিয়া বেগম। অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, কাদিরের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি।
দায়ীদের তথ্যানুসন্ধান করছে প্রশাসন
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিহতদের বাড়ি যাচ্ছেন তারা। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চাওয়া হবে– কবে, কার প্ররোচনায় কত টাকার বিনিময়ে তারা গিয়েছিলেন। এই চক্রে কারা কারা জড়িত, এসব জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘কেউ বৈধ পথে যায়নি। এ কারণে তাদের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আমরা তা প্রকাশ করব। হতাহতের বাড়ি বাড়ি আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যাচ্ছেন। আমরা জানতে চাইব, কাদের কাছে তারা টাকা দিয়েছেন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, লেনদেন করেছেন, দালাল কী আশা দিয়েছে। তাদের ঠিকানা জানতে পারলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করব।’