বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (বিওপি) সমর্থনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) একাধিক উৎসের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান রোববার অর্থনীতি বিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে গভর্নর বলেন, তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়া এখন অগ্রাধিকার। এ জন্য বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কী প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে বিশ্লেষণ দিচ্ছে। স্থিরমূল্যের চুক্তির আওতায় থাকা আমদানিতে স্বল্পমেয়াদে প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে।
এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থায়নের জন্য আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি শুরু হয়, যা পরে ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি রয়েছে ১৮৬ কোটি ডলার। আগামী জুলাইয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তি মিলিয়ে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গভর্নর বলেন, আর্থিক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।