পুরুষদের তুলনায় নারী সাংবাদিকেরা মৌখিক, অনলাইন ও শারীরিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বেশি—এমন তথ্য উঠে এসেছে এক জরিপে।
বুধবার (২৫ মার্চ) গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য যৌন হয়রানি প্রতিরোধ প্রটোকল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে।
২০২৫ সালে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সহযোগিতায় ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজ পাবলিশার্স’ ৩৩৯ জন সাংবাদিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে। এতে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ১০০ জন নারী ও ১৯০ জন পুরুষ সাংবাদিক ছিলেন।
জরিপে দেখা যায়, মোট সাংবাদিকদের ১৫ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে নারীদের ক্ষেত্রে হয়রানির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ফলাফলে দেখা যায়, হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ মৌখিক হয়রানির অভিযোগ করেছেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৯ শতাংশ। অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪৮ শতাংশ নারী এবং ১৫ শতাংশ পুরুষ সাংবাদিক।
এছাড়া শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন ২৪ শতাংশ নারী ও ৭ শতাংশ পুরুষ।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন নারী ও দুজন পুরুষ ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের আরাফাত সিদ্দিকী।
জরিপে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে মৌখিক হয়রানির ক্ষেত্রে এই দুর্বলতা বেশি। দেখা গেছে, মৌখিক হয়রানির অভিযোগকারী নারীদের ৪৩ শতাংশ এবং পুরুষদের ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর যেসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শুধু সতর্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর আল মামুন, নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং উইমেন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়ক আঙ্গুর নাহার মন্টি।