Image description

প্রায় ৫ দশক আগে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছেন, হেটেছেন খাল খনন কর্মসূচিতে আসা শত শত নানা বয়সী মানুষজনকে নিয়ে। সোমবার (১৬ মার্চ) সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও অনুসরণ করেছেন বলে দিনাজপুরের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী বৃদ্ধা কুলসুম বেগম।

তিনি বলেন, আমাদের বোনের ছেলে তারেক রহমান। খালেদা জিয়া আমাদের বোন। তার ছেলে তারেক রহমান। এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাবার মতোই ছেলে খাল কাটছে। শহীদ জিয়া মানুষজনকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার কর্মসূচিতে যোগ দিতেন।

বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল। এ খালটি দেখলে মনে হয় এটা খাল নয়, এবড়ো-থেবড়োভাবে উঁচু নিচু মাটির স্তুপ,খালটিতে পানি শুকিয়ে গেছে।। বর্ষা এলেই এই খালের পানিপ্রবাহ সেইভাবে দেখা যায় না। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

গৃহবধূ শিউলী খাতুন বলেন, হামারা ভালো নাই। সাড়াখাল হামাগো দুঃখ। তারেক রহমান এসেছেন, এবারের খালটি পূনঃখননে হয়ত হামাগো দুঃখ ঘুচবে।

দিনাজপুরের পশ্চিমে বলরামপুরের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন। ১২ কিলোমিটারের লম্বা সাড়া পাড়া খালটি মিশেছে জেলার প্রধান নদী পুনর্ভবা নদীর সাথে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা এই নদীর জলস্রোত ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে যা পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাহারোল এলাকায় এসেছেন বলে এ এলাকা মানুষজনের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছেয়ে গেছে। সরু রাস্তা দিয়ে বলরামপুরের দূরত্ব ১২/১৩ কিলোমিটার। শিশু-কিশোর থেকে গ্রাম্য গৃহবধূরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে কাছ থেকে। অনেকে হাত নেড়ে জানিয়েছে শুভেচ্ছা।

মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, সাহাপাড়া খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এখানে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। এ খালে পানি জমানো গেলে মাছ চাষ করা যাবে, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা গেলে সুবজ বনায়ন হবে। 

খাল খনন করতে আসা অনিত বলেন, আমাদের আজকে খুশি দিন। লিডার আসছে, আমাদের হৃদয়ের খুশির কথা ভাষা প্রকাশ করতে পারছি না।

তিনি বলেন, দেখেন আমরা কতজন? এটাই আমাদের খুশি, এটাই আমাদের অহংকার। বিনাশ্রমে আমরা আজকে খাল কাটবো।