দুর্নীতির এন্তার অভিযোগ মাথায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনের দুদিন পরই ছাড়েন দেশ। আর দেশত্যাগের পর থেকেই আরও নতুন নতুন দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠছে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে। যিনি আধাসরকারি সুপারিশপত্রের (ডিও লেটার) মাধ্যমে নিজের ঘনিষ্ঠজনদের সরকারি প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়ার এক ‘অনন্য’ নজির স্থাপন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে কনসালট্যান্ট পদে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে একটি ‘বিশেষ টিম’ গড়ে তোলেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। পরে রাষ্ট্র ও দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তিকে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে ব্যবহার করা হতো ফয়েজের ব্যক্তিগত নির্দেশনা বাস্তবায়নে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বল্পমেয়াদেই তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী পরিচিতি পান দেশের আইসিটি খাতের ‘মাফিয়া’ নামে। তার ঘনিষ্ঠ ও অনুগতদের সমন্বয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সরকারি প্রকল্প ঘিরে গড়ে ওঠে একটি ‘সিন্ডিকেট’ বা চক্র। যারা নিয়ন্ত্রণ করত এ খাতের অধিকাংশ সরকারি প্রকল্পের কাজ। তা সে হোক সরকারের মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা কোনো সংস্থা। অধিকাংশ প্রকল্পেই একক আধিপত্য বিস্তার করে চক্রটি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের অনুগত এই ‘বিশেষ টিমের তিন ‘অধিনায়ক’ হলেন এএসএম আশরাফ, আজাহার উদ্দিন অনিক ও আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিত। অভিযোগ রয়েছে, তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শর্তে কাজের পরিধি ও দায়িত্ব যা-ই থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজে লাগাতেন ফয়েজ। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় অর্থে নিজের ব্যক্তিগত টিম পরিচালনা করতেন। তথ্য গোপন করে ডিও লেটারের মাধ্যমে বিশেষ টিম গঠনের কৌশল অবলম্বন করেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার আইসিটিবিষয়ক এই বিশেষ সহকারী।
গত বছরের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। পরদিনই তিনি আইসিটি বিভাগের সচিবকে একটি ডিও লেটার দেন। ওই চিঠিতে নিজের অধীনে একটি ‘বিশেষ কারিগরি টিম’ রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনজনের নাম উল্লেখ করেন। তাদের মধ্যে এএসএম আশরাফকে ‘ইন্টার অপারেবিলিটি স্পেশালিস্ট’ এবং আজাহার উদ্দিন অনিক ও আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিতকে ‘পলিসি অ্যানালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ডিও লেটারে বলা হয়, এই টিম সরাসরি ফয়েজের নির্দেশনায় বিভিন্ন কারিগরি সমন্বয় ও তদারকি করবে এবং আইসিটি বিভাগের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করবে। তবে সেখানেও তথ্য গোপন করেছিলেন ফয়েজ তৈয়্যব।
ডিও লেটারে আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিতের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন ফয়েজ। ‘পলিসি অ্যানালিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করলেও সুস্মিত তখন আইসিটি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের চুক্তিবদ্ধ কনসালট্যান্ট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি পক্ষ ‘মব’ করে এটুআইর দখল নেয়। অভিযোগ আছে, সেই পক্ষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এবং ফয়েজ তৈয়্যবের ‘বুয়েটের ছোট ভাই’ হিসেবে এটুআইয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন সুস্মিত।
২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটুআইয়ে ‘কনসালট্যান্ট-এনভিশন’ হিসেবে মাসিক ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বেতনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয় তার। সে সময় এটুআইর উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা (ডিপিপি) অনুযায়ী, কনসালট্যান্ট পদে মাসিক সর্বোচ্চ বেতনের সীমা (সিলিং) ছিল সাড়ে ৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সিলিংয়ের থেকে মাত্র ১৫ হাজার টাকা কমে বেতন ধার্য হয় সুস্মিতের।
সুস্মিতের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। কনসালট্যান্ট হতে আগ্রহী প্রার্থীদের আগ্রহ প্রকাশের সুযোগ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার নিয়ম এড়াতে নামসর্বস্ব পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এটুআইর ওয়েবসাইটেও সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। আর এসবই হয়েছে বুয়েটের একই ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের বড় ভাইয়ের কল্যাণে। সুস্মিতের নিয়োগের সময় আইসিটি বিভাগের পলিসি অ্যাডভাইজার (সংস্কার ও সমন্বয়) ছিলেন ফয়েজ।
বড় ভাইয়ের আশীর্বাদে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০০৮-এর সীমাবদ্ধতাও সুস্মিতের কনসালট্যান্ট হওয়া থামাতে পারেনি। পিপিআরের তপশিল-৯ অংশ-গ এর বিধি ৩(বি)(২) অনুযায়ী কনসালট্যান্ট পদে চুক্তিবদ্ধ হতে আগ্রহী প্রার্থীকে ব্যাচেলর অথবা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ১০ বছরের মেধা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথচ ২০১৯ সালে বুয়েট থেকে ব্যাচেলর সম্পন্ন করেন সুস্মিত। সেই হিসেবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুস্মিতের ১০ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা থাকার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে এতকিছুর পরও এটুআই প্রকল্পের কনসালট্যান্ট পরিচয় গোপন করে সুস্মিতকে নিজের কারিগরি টিমে নেন ফয়েজ।
এএসএম আশরাফের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার রেকর্ড। সাজানো বিয়ের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে আড়াই বছর বসবাস করে সম্পর্ক তৈরির অভিযোগে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর আশরাফের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দিয়েছিলেন। পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) তদন্ত করে আশরাফের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। অথচ চারিত্রিক স্খলনের রেকর্ডধারী সেই আশরাফকেই নিজের কারিগরি টিমের সদস্য করেন ফয়েজ। ফয়েজ ও আশরাফ ইইই বিভাগে বুয়েটে একই ব্যাচে পড়াশোনা করেছেন, অর্থাৎ সহপাঠী।
তবে বিপত্তি বাঁধে আশরাফের বেতনাদি নিয়ে। আইন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত টিম গঠনের বিধান না থাকায় সেই টিমের কোনো সদস্যের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন বা ভাতা পাওয়ার সুযোগ নেই। এজন্য আশরাফকে আইসিটি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) ‘এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (এজ)’ প্রকল্পের ‘প্রকল্প ব্যবস্থাপক’ তথা কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পে প্রতি মাসে আশরাফের বেতন ধরা হয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের জুনে ফয়েজের প্রভাবে চার মাস মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান আশরাফ।
পরে এএসএম আশরাফকে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে সংযুক্ত করা হয়। গত ৩ মার্চ ‘এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (এজ)’ প্রকল্প থেকে আশরাফ এবং এটুআই থেকে মোহম্মদ মাসুদুর রহমানকে প্রেষণে সংযুক্ত করা হয়।
আরেক বিতর্কিত নিয়োগ আজাহার উদ্দিন অনিকের। পলিসি অ্যানালিস্ট হিসেবে ফয়েজের টিমে স্থান পাওয়া অনিক ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ থেকে ব্যাচেলর সম্পন্ন করেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়াই ফয়েজের প্রভাবে ২০২৫ সালের মে মাসে অনিককে আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ‘ডিজিটাল এন্টারপ্রেনিয়রশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্ট (ডিইআইইডি) প্রকল্পে ‘সৃজনশীলতা ও বাণিজ্যিকীকরণ বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
‘জুনিয়র কনসালট্যান্ট’ পদমর্যাদায় মাসিক ৩ লাখ ১৯ হাজার টাকায় ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয় অনিকের। পিপিআর অনুযায়ী, জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পেতে আগ্রহী প্রার্থীর কমপক্ষে পাঁচ বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, যা ২০২১ সালে স্নাতক সম্পন্ন করা অনিকের জন্য ছিল অসম্ভব। অর্থাৎ অনিকের নিয়োগের ক্ষেত্রেও পিপিআরের শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাষ্ট্র ও দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া এএসএম আশরাফ, আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিত ও আজাহার উদ্দিন অনিক নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের বদলে অধিকাংশ সময় সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের নির্দেশনা বাস্তবায়নেই ব্যস্ত থাকতেন। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কার্যালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কনসালট্যান্টদের চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন, সার্বক্ষণিকভাবে প্রকল্প কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা, অনুপস্থিত থাকলে প্রকল্প পরিচালকের অনুমতি নেওয়া এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাস্তবে এই তিনজনকে প্রায়ই নিজেদের কর্মস্থলের বাইরে দেখা যেত।
আইসিটি বিভাগের পাশাপাশি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বিভিন্ন সভায়ও ফয়েজের সঙ্গে উপস্থিত থাকতেন তারা। অথচ তারা ওই বিভাগের কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন। এ ছাড়া ফয়েজের আশীর্বাদপুষ্টতার কারণে যখন তখন যে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন তারা। ফলে নষ্ট হতো চেইন অব কমান্ড। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বদলি, টেন্ডার বাণিজ্য, শ্বেতপত্রে নাম সংযুক্তকরণের হুমকি ও প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়েজ তৈয়্যবের ‘বিশেষ কারিগরি টিম’- এর পলিসি অ্যানালিস্ট আজাহার উদ্দিন অনিক কালবেলাকে বলেন, ডিইআইডি প্রকল্পে তার নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব ছিল না। তার দাবি, তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর টিমে পলিসি অ্যানালিস্ট হিসেবে সম্পৃক্ততা ছিল সম্পূর্ণ অবৈতনিক এবং সেখানে তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি।
অনিক বলেন, তিনি মূলত প্রকল্পে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদারকির কাজ করতেন। একই সঙ্গে তিনি, সুস্মিত ও আশরাফ মিলে একটি কারিগরি টিম হিসেবে আইসিটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য কৌশলগত নীতিপত্র এবং টেলিকমিউনিকেশন খাতের একটি শ্বেতপত্র তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে অনিক বলেন, তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই আবেদন করেছিলেন এবং তার ছয় মাসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিজে থেকেই আর নবায়নের আবেদন করেননি।
কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার বা দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম বা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর চেষ্টা করায় অনেকের কাছে তারা অপছন্দের হয়ে থাকতে পারেন। ‘এ ধরনের মানুষের কাছে যদি আপনি কেবল একটি প্রকল্পের কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন, তখন তারা আপনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। এখানে মন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার পরিচয়টা কিছু ক্ষেত্রে দরকার হতে পারে। তবে বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, সেটি পুরোপুরি তাদের ব্যাপার’, বলেন অনিক।
আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিতও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন টিম ছিল না; বরং অবৈতনিক ভিত্তিতে গঠিত একটি এক্সপার্ট কমিটি, যার কাজ ছিল নীতিনির্ধারণী বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেওয়া। এই টিম কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বা পত্র জারি করেনি।’
নিজের নিয়োগ প্রসঙ্গে সুস্মিত বলেন, তার দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গবেষণা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ দেয়। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেন।
আচরণগত অভিযোগের বিষয়ে সুস্মিত বলেন, আইসিটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন টাস্কফোর্সে অবৈতনিকভাবে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের নথি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ করেছেন। আইসিটি খাতে কিছু অব্যবস্থাপনা দূর করার চেষ্টা করতে গিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হয়ে থাকতে পারেন বলেও দাবি তার।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং তার ‘বিশেষ কারিগরি টিম’-এর ‘ইন্টার অপারেবিলিটি স্পেশালিস্ট’ এএসএম আশরাফের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে দফায় দফায় কল করা হলেও রিসিভ করেননি। পরে এই প্রতিবেদক তার পরিচয় জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন লিখে পাঠালেও তারা কোনো জবাব দেননি।
সার্বিক বিষয়ে অবহিত করে মন্তব্য জানতে চাইলে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু আমি অবগত নই, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’