সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, “৪৭টি মাথার খু'লি ও কঙ্কাল সহ সমন্বয়ক মোস্তাক ও ৩ জন গ্রে'ফ'তার। পুলিশ হত্যার বিচারের কথা শোনার পর পর এই খুলি উদ্ধার হয়, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মন্তব্য করছেন জুলাই আগস্ট জঙ্গি হামলায় যে পুলিশ নিহত হয়েছিল তাদেরই খুলি এবং কঙ্কাল হতে পারে।”
এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়।
যাচাইয়ে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ ও রিভার্স ইমেজ সার্চ করে একাধিক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রথম আলো -এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে মনিপুরীপাড়া এলাকা থেকে কাজী জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে মাথার খুলিসহ একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।’’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি কবরস্থান থেকে মানবকঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সোমবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মাথার খুলিসহ দুটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা এলাকায় অবস্থিত সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে মাথার খুলিসহ ৪৪টি মানবকঙ্কাল জব্দ করা হয়। এসব কঙ্কাল দেশের বিভিন্ন এলাকার কবরস্থান থেকে অবৈধভাবে খুঁড়ে তোলা হয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, চক্রটি গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মানবকঙ্কাল চুরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চড়া দামে বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানার এসআই মিরাজ উদ্দিন একটি মামলা দায়ের করেন।
একই ঘটনা নিয়ে The Daily Star, ইত্তেফাক এবং Jamuna TV সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অর্থাৎ, ভাইরাল ভিডিওতে যেভাবে “সমন্বয়ক মোস্তাক” গ্রেপ্তার এবং পুলিশ সদস্যদের কঙ্কাল উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে এটি কবরস্থান থেকে মানবকঙ্কাল চুরি ও বিক্রির একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবিটি বিভ্রান্তিকর।