Image description

উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে অন্য ১৫ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম আসাটা অস্বস্তির বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। আজ দুপুরে সকালে তিনি প্রথম আলোর কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের নাম আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ খান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, ১৬ দেশের কোথাও অন্যায্য চর্চা, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রণোদনা প্রদান এবং মেধাস্বত্বের লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, সেসব খতিয়ে দেখতে তারা শুনানি করবে। এমন অভিযোগের প্রমাণ পেলে হয়তো তারা বাড়তি শুল্ক বসাতে পারে।’

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসাটা অস্বস্তির। তবে আমি এতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছি না। তার কারণ, বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনে মেধাস্বত্বের চর্চা এখনো সীমিত। মার্কিন ব্র্যান্ডের পণ্যের বাজারও খুবই ছোট। শ্রম অধিকারের ইস্যু ইতিমধ্যে আমরা মীমাংসা করেছি। পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনাও খুবই অল্প। কৃষিতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই কৃষিতে প্রণোদনা দেয়। আর আমাদের সরকার তো শুধু সারে প্রণোদনা দিয়ে থাকে।’

মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিজেদের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় থেকে এমন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড়। তবে তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাটা যৌক্তিক নয়। তার কারণ, দেশটিতে আমাদের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। আর আমরা যেসব তৈরি পোশাক উৎপাদন করি, সেগুলো মার্কিন ব্যবসায়ীরা কখনোই করবেন না।

বিজিএমইএর সভাপতি আরও বলেন, যেহেতু তদন্তে বাংলাদেশের নাম এসেছে, সেহেতু সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অগ্রিম যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যেন আমরা ভালোভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারি।

উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বুধবার এ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ তদন্ত করা হবে।

তদন্তে যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, তা হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, পদক্ষেপ বা উৎপাদনকাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না।

বাংলাদেশসহ আরও যে ১৫টি দেশের বিরুদ্ধে এ তদন্ত করা হবে, সেই দেশগুলো হলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।