Image description

নেত্রকোনার প্রত্যন্ত গ্রামের এক তরুণ। স্বপ্ন ছিল একদিন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার। সেই পথ মোটেও ছিল না সহজ। বুয়েটে পড়াশোনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। পাশাপাশি মাস্টার্স। এরই মধ্যে বিসিএসের প্রস্তুতি। সময় ছিল সীমিত। লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। বাবার পরামর্শে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন পররাষ্ট্র ক্যাডার। নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বাস তাকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের শিখরে। সেই তানভীর রহমানই এখন ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম। এ সাফল্যের গল্প, প্রস্তুতির কৌশল, চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তরুণদের জন্য বার্তা নিয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনির হোসেন রনি

আগামীর সময়: প্রথমেই অভিনন্দন। পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার খবরটি কীভাবে জানতে পারেন?

তানভীর রহমান: আপনাকে ধন্যবাদ। ফল প্রকাশের দিন আমি ফুটবল খেলতে মাঠে ছিলাম। তখন ছোট বোন ফোন করে ফল প্রকাশের খবর জানায়। একই সময়ে ৪৬তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া ফাতিন ইশরাকও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আমি শুধু আশা করেছিলাম কোনো একটি ক্যাডারে সুপারিশ পাব। কিন্তু পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হব, তা ভাবিনি।

আগামীর সময়: নিজের সম্পর্কে বলুন।

তানভীর রহমান: আমার বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বাঘরা গ্রামে। পরিবারে বাবা-মা, আমি ও দুই বোন। শিক্ষাজীবন শুরু গ্রামের বাঘরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে পড়েছি। বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক করি। বর্তমানে একই বিষয়ে মাস্টার্স করছি। এ ছাড়া এক বছর ধরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

আগামীর সময়: কেন পররাষ্ট্র ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন?

তানভীর রহমান: বিসিএসে আবেদন করার আগে বাবার সঙ্গে আলোচনা করি। তিনিই পররাষ্ট্র ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখতে পরামর্শ দেন। শুরুতে এটি পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিল। পরে এই ক্যাডার সম্পর্কে জানার পর নিজেরও আগ্রহ তৈরি হয়। আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নই পূরণ হয়েছে।

আগামীর সময়: বিসিএসের প্রস্তুতি কবে থেকে শুরু করেছিলেন?

তানভীর রহমান: বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে ওঠার পর প্রশ্নব্যাংক দেখে প্রস্তুতি শুরু করি। শেষ সেমিস্টারের পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়ার আগেই ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।

আগামীর সময়: আপনার প্রস্তুতির কৌশল কী ছিল?

তানভীর রহমান: সত্যি বলতে, আলাদা কোনো কৌশল ছিল না। স্নাতক শেষ করার পরপরই আমি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিই। পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি ছিল না। পরীক্ষা ছিল, তাই যতটুকু সময় পেয়েছি, ততটুকুই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছি। এত ভালো ফল হবে— আশা করিনি। প্রস্তুতির সময় কম ছিল। আমি একটি বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি—নিয়মিত পড়াশোনা। প্রতিদিন দুই-তিন ঘণ্টা করে পড়াশোনার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, এ ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত বড় শক্তি ছিল।

আগামীর সময়: প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার জন্য আলাদা করে কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

তানভীর রহমান: প্রিলিমিনারির জন্য মূলত লাইভ এমসিকিউ সাপ্তাহিক মডেল টেস্ট নিয়মিত দিতাম। প্রতিটি পরীক্ষার পর নম্বরের চেয়ে ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে সেগুলোই বারবার রিভিশন দিতাম। লিখিত পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন বই, অনলাইন রিসোর্স এবং এআই টুল ব্যবহার করেছি। ভাইভার আগে একটি প্রস্তুতি গ্রুপে যুক্ত ছিলাম। সেখানে সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিজের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিই।

 

আগামীর সময়: কোন বই, নোট বা রিসোর্সগুলো আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে?

তানভীর রহমান: লিখিত পরীক্ষার জন্য আমার হাতে দুই মাসের মতো সময় ছিল। তাই অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেই সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করতাম। সময় কম থাকায় গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান— যেগুলো আমার শক্তিশালী বিষয় ছিল, সেগুলোতে তুলনামূলক কম সময় দিয়েছি। অন্যদিকে বাংলা, বাংলা সাহিত্য, গ্রন্থসমালোচনা, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়াবলির মতো দুর্বল বিষয়গুলোতে বেশি সময় দিয়েছি। শক্তি ও দুর্বলতা অনুযায়ী সময় ভাগ করাই আমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল ছিল।

আগামীর সময়: প্রস্তুতির সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল? কীভাবে তা মোকাবিলা করেছেন?

তানভীর রহমান: এটি ছিল আমার প্রথম বিসিএস। একই সঙ্গে ফুলটাইম চাকরি, মাস্টার্স এবং বিসিএসের প্রস্তুতি— সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা। নিয়মিত ফুটবল খেলতাম, সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করতাম এবং ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই প্রস্তুতির বড় একটি অংশ সহজ হয়ে যায়।

আগামীর সময়: প্রথমবারেই কি সফল হয়েছেন, নাকি এর আগে বিসিএসে অংশ নিয়েছিলেন?

তানভীর রহমান: এটি আমার প্রথম সাধারণ বিসিএস। ৪৭তম বিসিএসেই প্রথম অংশ নিই। এর মধ্যে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসেও অংশগ্রহণ করি। সেখানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হই এবং মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করি। আমার মূল লক্ষ্য ছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার। সেটা পূরণ হয়েছে।

আগামীর সময়: মানসিক চাপ ও হতাশার সময় নিজেকে কীভাবে অনুপ্রাণিত রাখতেন?

তানভীর রহমান: আমি সবসময় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছি। চাকরি, মাস্টার্স ও বিসিএসের প্রস্তুতি একসঙ্গে থাকায় হতাশ হয়ে বসে থাকার সুযোগও ছিল না। মন খারাপ হলে নামাজ আদায় করতাম, মসজিদে কাটাতাম, ফুটবল খেলতাম কিংবা খেলা দেখতাম। পড়াশোনার বাইরে পছন্দের কাজে কিছুটা সময় দিলে মানসিকভাবে সতেজ হওয়া যায়। এভাবেই পুরো প্রস্তুতির সময় ইতিবাচক থাকতে পেরেছি।

আগামীর সময়: ভাইভা বোর্ডে কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল? কোনো প্রশ্ন বিশেষভাবে মনে আছে?

তানভীর রহমান: ভাইভা বোর্ডের পরিবেশ ছিল খুবই আন্তরিক। শুরু থেকেই কোনো চাপ অনুভব করিনি। আমার শিক্ষাগত ফলাফল ভালো হওয়ায় শিক্ষকতা-সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল। বিশেষ করে জানতে চাওয়া হয়, কেন আমি বুয়েটে শিক্ষকতা করিনি বা করতে পারিনি। কেন শিক্ষকতার পরিবর্তে পররাষ্ট্র ক্যাডারকে বেছে নিতে চাই। এ ছাড়া আমার অ্যাকাডেমিক ও টেকনিক্যাল বিষয় নিয়েও কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়।

আগামীর সময়: পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার পেছনে ইংরেজি দক্ষতার ভূমিকা কতটা ছিল?

তানভীর রহমান: বর্তমান সময়ে প্রায় সবক্ষেত্রেই ইংরেজি দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্র ক্যাডারের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইংরেজি ভালো জানার সুবিধা রয়েছে। আমার ক্ষেত্রে ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার কারণে ইংরেজিতে পড়া, লেখা ও কথা বলার একটি ভালো ভিত্তি আগে থেকেই ছিল। আলাদা করে খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে হয়নি। যারা পররাষ্ট্র ক্যাডারে আসতে চান, তাদের ইংরেজি দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আগামীর সময়: এ সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কার?

তানভীর রহমান: সবার আগে আমার বাবা-মা ও পরিবারের অবদান। তাদের ভালোবাসা, ত্যাগ ও উৎসাহ ছাড়া এ পথচলা সম্ভব হতো না। পাশাপাশি আমার শিক্ষক, বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র এবং আত্মীয়স্বজন— সবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এই অর্জন আমি সবার সম্মিলিত ভালোবাসা ও দোয়ার ফল বলে মনে করি।

আগামীর সময়: ফল প্রকাশের পর পরিবার ও কাছের মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

তানভীর রহমান: আমি আশা করেছিলাম, কোনো একটি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হব। কিন্তু পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হব— সত্যিই কল্পনা করিনি। ফল প্রকাশের পর আমি যেমন বিস্মিত হয়েছিলাম, পরিবার ও বন্ধুদের অনেকেও আনন্দের সঙ্গে অবাক হয়েছেন। তবে পরদিন আমার মাস্টার্সের পরীক্ষা থাকায় সবার শুভেচ্ছার জবাব দেওয়ার চেয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতিতেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।

আগামীর সময়: একজন ভবিষ্যৎ কূটনীতিক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি তুলে ধরতে চান?

তানভীর রহমান: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের মানবসম্পদ, বৃহৎ ভোক্তা বাজার এবং কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী। এ সম্ভাবনাগুলো বিশ্বের সামনে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, দক্ষ জনশক্তি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিশ্বদরবারে তুলে ধরা প্রয়োজন। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্বার্থরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

আগামীর সময়: বর্তমান বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

তানভীর রহমান: বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। কারণ, একটি দেশের অর্থনীতি শুধু উন্নয়ন নয়; অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একই সঙ্গে বিশ্ব এখন যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বিচক্ষণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আগামীর সময়: সুযোগ পেলে কোন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করতে চাইবেন এবং কেন?

তানভীর রহমান: সুযোগ পেলে আমি সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। কারণ, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি একজন মুসলিম হিসেবে সৌদি আরবের প্রতি আমার ব্যক্তিগত আবেগ ও শ্রদ্ধাও রয়েছে।

আগামীর সময়: বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা কী বলে মনে করেন?

তানভীর রহমান: সত্যি বলতে, এ বিষয়ে আমি চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ, এটি ছিল আমার প্রথম বিসিএসের প্রস্তুতি। যারা দীর্ঘদিন ধরে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতা আমার চেয়ে অনেক বেশি। একটি বিষয় আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ভালো ফল অবশ্যই আসবে। অন্যের কথা বা প্রচলিত ধারণার চেয়ে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

আগামীর সময়: যদি আবার শুরু থেকে বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে হতো, তাহলে কি ভিন্নভাবে করতেন?

তানভীর রহমান: আমার ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন করার সুযোগ থাকত না। চাকরি, মাস্টার্স এবং ব্যক্তিগত জীবন— সবকিছুর মধ্যে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি পড়াশোনার সময় পাওয়া সম্ভব ছিল না। একটি বিষয় অবশ্যই ভিন্নভাবে করতাম। লিখিত পরীক্ষার আগে অন্তত কয়েকটি মডেল টেস্ট দিতাম। পরে বুঝেছি, লিখিত পরীক্ষায় শুধু বিষয় জানা নয়, সময় ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে মডেল টেস্ট দিলে উত্তর লেখার গতি ও সময় বণ্টন আরও ভালোভাবে আয়ত্ত করা যেত।

আগামীর সময়: দেশের তরুণদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

তানভীর রহমান: বড় বার্তাটা হলো— কখনো থেমে যাওয়া যাবে না। জীবনে সাফল্য সবার কাছে একই সময়ে আসে না। কেউ আজ সফল হয়, কেউ হয়তো আগামীকাল। অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে যেতে হবে। নিজের ওপর ভরসা রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আন্তরিক প্রচেষ্টা কখনোই বৃথা যায় না।

আগামীর সময়: আপনাকে ধন্যবাদ।

তানভীর রহমান: আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।