Image description

ইরানের অন্যায়ভাবে হামলা করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তুলোধুনো করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্ন। তার অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইন, জেনেভা কনভেনশন এবং জাতিসংঘের নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনাই বাড়ায় না, বরং মানবতা ও বিশ্বের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত বিপজ্জনক।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সোশ্যাল হ্যান্ডেল এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটর প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যদি একতরফাভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর অধিকার থাকে, তাহলে অন্য রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য হবে না কেন? সে ক্ষেত্রে চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, রাশিয়া যদি পোল্যান্ডে আক্রমণ করে বা উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে—তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধে নৈতিক বা আইনি আপত্তির ভিত্তি কোথায় দাঁড়াবে?

তিনি বলেন, “ট্রাম্পের পৃথিবীতে, যেকোনো জাতির যেকোনো কারণে অন্য যেকোনো জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার ‘অধিকার’ রয়েছে।” বার্নি স্যান্ডার্ন বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর বিশ্ব সম্প্রদায় আগ্রাসী যুদ্ধ ঠেকাতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক একটি কাঠামো গড়ে তোলে।

মার্কিন এই রাজনীতিবিদ অভিযোগ করেন, ‘ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সেই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকেই ধ্বংস করে দিচ্ছেন এবং বিশ্বকে আবারও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে ইতিহাসের মতোই বড় যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রায় এক কোটি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেপ্রায় পাঁচ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন পৃথিবীতে ফিরতে পারি না যেখানে যেকোনো দেশ যেকোনো কারণে অন্য দেশকে আক্রমণ করতে পারে। এ ধরনের মনোভাব আমাদের এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে আরও অরক্ষিত করে দিচ্ছে।’