ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের এর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করে—দেশকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এই প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় একটি বিষয় অনেকের নজরে এসেছে—সাবেক উপদেষ্টাদের প্রতি প্রত্যাশিত সম্মান ও আনুষ্ঠানিক মর্যাদা প্রদর্শনের অভাব। এই বিষয়টি রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনার দাবি রাখে। যে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। একটি সরকার দায়িত্ব শেষ করে অন্য সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিলে সেখানে পারস্পরিক সম্মান, সৌজন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক শালীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা প্রায় দেড় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁদের প্রতি ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন প্রত্যাশিত ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় যদি একটি আনুষ্ঠানিক পরিচিতি সভা আয়োজন করা হত—যেখানে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে সাবেক উপদেষ্টাদের পরিচয় ও সৌজন্য বিনিময় হতো—তাহলে সেটি একটি ইতিবাচক বার্তা দিত। এতে বোঝানো যেত যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন দল বা মতের ঊর্ধ্বে।
শপথ অনুষ্ঠান ও দৃশ্যমান অস্বস্তি
শপথ অনুষ্ঠানের সময় যে দৃশ্যটি অনেককে বিব্রত করেছে তা হলো—সাবেক উপদেষ্টাদের একটি অনিশ্চিত ও অস্বস্তিকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রটোকল বা সুস্পষ্ট আয়োজন চোখে পড়েনি। এটি হয়তো ইচ্ছাকৃত ছিল না; বরং প্রটোকলগত ত্রুটি বা তাড়াহুড়োর ফল হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতীকী বিষয়গুলোরও বড় গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এসব দৃশ্য জনগণের কাছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন হিসেবে ধরা পড়ে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিরোধ ও বিভাজনের সংস্কৃতি বেশি দৃশ্যমান। ফলে রাজনৈতিক সৌজন্য বা পরস্পরের অবদানের স্বীকৃতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। এই বাস্তবতায় ক্ষমতা হস্তান্তরের মুহূর্তগুলো হতে পারে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগ। যদি নতুন সরকার সাবেক উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করত, তাঁদের ধন্যবাদ জানাত এবং দায়িত্ব পালনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত—তাহলে সেটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করত। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মধ্যেও পারস্পরিক সম্মানবোধ বাড়াতে সহায়ক হতে পারত। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাও শক্তিশালী হতো।
গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আচরণ, মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমন্বিত প্রকাশ। ক্ষমতার পালাবদলের সময় পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার অন্যতম লক্ষণ। সাবেক উপদেষ্টাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হতো। কারণ এতে বোঝানো যেত যে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের অবদান রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে বিবেচিত হয়।
বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক
রাজনীতিতে মতপার্থক্য, সমালোচনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক বিষয়। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে রাজনৈতিক সৌজন্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করার মতো—বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকার বা উপদেষ্টাদের খুব একটা ভালো চোখে দেখেনি। এই মনোভাব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আচরণ ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল একটি নিরপেক্ষ পরিবেশে রাষ্ট্র পরিচালনা করা এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করা। এ ধরনের সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও ন্যূনতম সৌজন্য প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতা প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রকাশ্যে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। এসব মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা তীর্যক ভাষার রূপ নিয়েছে।
বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার একটি বড় অনুষ্ঠানে এক প্রভাবশালী উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তীর্যক ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নেট জগতে ভেসে বেড়ায় এবং তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হয়। এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে।
তবে এই পরিস্থিতি পুরোপুরি একই রকম ছিল না। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিষয়টি উপলব্ধি করে কিছুটা সংযত অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হয়। তাঁর হস্তক্ষেপের পর প্রকাশ্য সমালোচনা ও তীব্র বক্তব্য কিছুটা কমে আসে। এর ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনাও কিছুটা প্রশমিত হয়।
তবুও বাস্তবতা হলো—দুই পক্ষের সম্পর্কের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব স্পষ্ট ছিল। অনেক সময় বিমানবন্দরের লাউঞ্জে আসা-যাওয়ার পথে উপদেষ্টাদের সাথে বিএনপির নেতাদের দেখা হলে আনুষ্ঠানিক সালাম বিনিময় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই আচরণে আন্তরিকতার ঘাটতি সহজেই অনুভূত হয়েছে। কথাবার্তা ছিল সংক্ষিপ্ত, অনেক সময় শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে গেলে, এই সম্পর্ক সব সময় সুখকর ছিল না। দায়িত্ব পালনের সময় বহু রাজনৈতিক নেতার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে, আলাপ হয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এমন একটি দূরত্ব ও অস্বস্তি অনুভূত হয়েছে, যা রাজনৈতিক সৌজন্যের মানদণ্ডের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরোধিতা থাকবে, মতভেদ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের প্রতি ন্যূনতম সম্মান ও সৌজন্য প্রদর্শন করা রাজনৈতিক পরিপক্বতার লক্ষণ। কারণ ক্ষমতা আসে-যায়, কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে শক্ত বা দুর্বল করে দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি সত্যিকার অর্থে একটি স্বাস্থ্যকর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা এবং শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের অভিজ্ঞতা সেই প্রয়োজনীয়তার কথাই আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা যখন গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়টি গভীর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতিকে কেন্দ্র করে সরকার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সেই সময় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এসব বৈঠকে তাঁর চিকিৎসা পরিস্থিতি, সম্ভাব্য করণীয় এবং রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপদেষ্টা হিসেবে আমিও এসব বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম।
বৈঠকগুলোতে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে—যদি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাঁর মর্যাদা ও রাজনৈতিক অবদানের কথা বিবেচনায় রেখে এসএসএফের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান, রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা, জানাযার আয়োজন এবং লাখো মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর মরদেহ কোথায় রাখা হবে, জানাযা কোথায় অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী ধরনের আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন করা হবে—এসব বিষয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
এ সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করা। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনাও এসব বৈঠকে আলোচনা করা হয়, যাতে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।
পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ দেশে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়েছিল এবং মৃত্যুর পর তাঁর রুহের মাগফিরাত ও পারলৌকিক মুক্তির জন্য বিশেষ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে আমি সেই মুনাজাত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করি। পুরো মন্ত্রিসভা গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে মুনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
সেদিনের সেই মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত আবেগঘন।
রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দেশের একজন প্রবীণ নেত্রীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে সম্মান ও মানবিকতা প্রদর্শন করা হয়, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই ঘটনাপ্রবাহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও মানবিকতা, সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।
মনে রাখতে হবে, আজ যারা ক্ষমতায় আসীন আছেন তারা স্থায়ীভাবে এই অবস্থানে থাকবেন না। সময়ের বিবর্তন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় একসময় তাদেরকেও ক্ষমতা আরেকটি নির্বাচিত দলের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। সেই মুহূর্তে যদি বর্তমান আচরণই দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হতে পারে। তাই রাজনৈতিক সৌজন্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক শালীনতার সংস্কৃতি বজায় রাখা সবার জন্যই জরুরি। কারণ আজ যে আচরণ করা হচ্ছে, আগামীকাল তার প্রতিফলন নিজের কাছেই ফিরে আসতে পারে—এটা মনে রাখা রাজনীতির জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি রাষ্ট্রের সুস্থ ধারাবাহিকতার জন্যও অপরিহার্য।
অতীতের ঘটনাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেওয়াই শ্রেয়। ভবিষ্যতে যখনই ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসবে, তখন প্রটোকল ও রাজনৈতিক সৌজন্যের বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা দায়িত্ব পালন করেন—তাঁরা যে দল বা সরকারেরই হোন না কেন—তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও পরিপক্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে এই সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। আর ক্ষমতা হস্তান্তরের মুহূর্তগুলোই হতে পারে সেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনার উপযুক্ত সময়।
লেখক: সাবেক উপদেষ্টা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার