‘যুদ্ধ শুরু হবে জানতাম। জানতাম দুঃখের দিন আসবে। তবে এত তাড়াতাড়ি আসবে বুঝতে পারিনি।’ বলছিলেন ইরানের রাজধানী তেহরানের এক বাসিন্দা। ইরানে টানা এক সপ্তাহ ধরে নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে শিশুসহ এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন তেহরানের ওই বাসিন্দার কাছের এক বন্ধু।
গতকাল শুক্রবার ছিল মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সপ্তম দিন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। যুদ্ধ এখন ওই অঞ্চলের ১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের মতো এই দেশগুলোতেও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এমন মানবিক সংকটের মধ্যে গতকাল ইরানে হামলা আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দেশটিতে নিজেদের অভিযান ‘লায়ন রোর’-এর দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এদিনই বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের জুনে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের পর এই প্রথম বিমানটি ব্যবহার করল মার্কিন বাহিনী।
যুদ্ধের এমন তীব্রতার মধ্যে ইরানে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। তাদের হিসাবে গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। যদিও গত বুধবার মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছিল, ইরানে হামলায় নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৯৭। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০টি শিশু।
অথচ মাসখানেক আগে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে বলেছিলেন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে।’ সেই ‘সাহায্য’ তাঁদের ওপরে হামলা হয়ে আসবে, তা হয়তো আশা করেননি ইরানিরা। তেহরানের এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, ‘হয়তো বোমা থেকে হয়তো বেঁচে যাব। তবে মানসিক চাপ থেকে রক্ষা পাব না।’
সাড়ে ৩ হাজার বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতি
পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি নড়বড়ে। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময়ও দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইরানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এখন আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ইরানিরা। এমন একজন সিএনএনকে বলেন, ‘সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে যেন সিনেমা চলছে।’
আসলেই গত সাত দিনেই হামলায় ইরানিরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হারিয়েছেন। এ সময়ে দেশটিতে নিহতের পাশাপাশি ২ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হামলায় আহত ৬২৫ জনের বেশি মানুষের অস্ত্রোপচার করা লেগেছে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনের সময় আহত হয়েছেন ৩০ জন চিকিৎসাসেবাকর্মী।
এ তো গেল হতাহতের হিসাব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানে ১১টি হাসপাতাল, ৮টি জরুরি মেডিক্যাল সেন্টার ও ১২টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ইরানের রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া আলাদা তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে ৩ হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯০টি বাসাবাড়ি।
চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে ইরানে নিহত হয়েছে অন্তত ১৮১টি। এই শিশুদের বেশির ভাগ প্রাণ হারায় দেশটির মিনাব শহরে এক স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায়। রয়টার্সকে সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর দিন ওই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী মনে করা হচ্ছে। এরপরও গতকাল ইরানে অন্তত দুটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর একটি তেহরানে নিলোফর স্কয়ারে। সেখানে কত হতাহত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
‘মানুষকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে’
যুদ্ধের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ইরান ও লেবাননে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, যুদ্ধের মধ্যে ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ লেবানন থেকে পালিয়েছে। আর তেহরানে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন ১ লাখের বেশি মানুষ। নিরাপত্তার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের হামলার মধ্যে গতকাল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি ছেড়ে বাসিন্দাদের পালাতে দেখা যায়। এলাকাটি প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। ২০২৪ সালে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের সময়ও তাঁরা ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া এমন এক ব্যক্তি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা পশু নই। আমরা মানুষ। শীতে আমাদের বাচ্চারা জমে যাচ্ছে।’
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন ইউএনএইচসিআরের ইমার্জেন্সি অ্যান্ড প্রোগ্রাম সাপোর্টের পরিচালক আয়াকি ইতো। গতকাল জেনেভায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই সংকটের কারণে এখন মানবিক জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত মানুষকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
যুদ্ধের নতুন ধাপ শুরু
গতকাল সকালে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের নতুন ধাপ শুরু করেছে। এখন ইরান সরকারের অবকাঠামোগুলোয় হামলা জোরদার করবে তারা। তেহরান থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে আজ (শুক্রবার) সারা দিন একের পর এক হামলা হয়েছে। আগের দিনগুলোর তুলনায় গত রাতে সবচেয়ে ভারী বোমাবর্ষণ হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গতকাল জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইরানে প্রায় ২০০ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে তেহরানে সামরিক বাহিনীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হামলা হয়েছে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের একটি এলাকাতেও। এ ছাড়া ইরানের শিরাজ শহরে হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের একটি ড্রোনবাহী রণতরিতে হামলার দাবিও করেছে সেন্টকম। এ হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা। তবে কোথায় হামলাটি চালানো হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। সেন্টকমের ভাষ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের অন্তত ৩০টি নৌযান ধ্বংস করেছে তারা। এর আগে গত বুধবার শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানের জাহাজ ‘আইআরআইএস দিনা’ মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ধ্বংস হয়।
দীর্ঘ যুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত ইরান
চলমান যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ততই বাড়বে। পরিস্থিতি সেদিকেই গড়াচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর খবর অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। সে লক্ষ্যে অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গতকাল মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের সঙ্গে বৈঠক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ১০০ ঘণ্টায় ৩৭০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে মার্কিন বাহিনীর। অর্থাৎ দিনে খরচ হয়েছে গড়ে ৮৯ কোটি। তবে দীর্ঘ যুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আগামী ধাপের হামলাগুলোয় শত্রুদের অত্যন্ত ‘যন্ত্রণার’ আশা করা উচিত। তাদের দিকে ইরানের নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্র ধেয়ে যাচ্ছে। এসব প্রযুক্তি আগে এত বড় পরিসরে ব্যবহৃত হয়নি।
ইরানে সেনা মোতায়েন চান না ট্রাম্প
এমন পরিস্থিতিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র সেনা মোতায়েন করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশ্লেষকেরাও বলছিলেন, ইরানে সরকার পতনের যে লক্ষ্যে ট্রাম্প এগোচ্ছেন, সেটি স্থল অভিযান ছাড়া সম্ভব নয়। আবার এই কাজ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অতটাও সহজ হবে না। কারণ, এটি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ নয়। আর ইরাকের তুলনায় ইরান তিন থেকে চার গুণ বড়।
গত বৃহস্পতিবার ইরানে সেনা মোতায়েন না করার পক্ষেই কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানো সময়ের অপচয় হবে। তারা (ইরান) সবকিছুই হারিয়েছে। তারা নিজেদের নৌবাহিনী হারিয়েছে—হারানোর যা ছিল, সবই হারিয়েছে।
তবে ইরানে স্থলযুদ্ধের ইরাকের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রস্তুত করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরাক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলাও চালিয়েছে ইরান।
যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী ইরানে প্রবেশ করে, তাহলে ইরানিরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইসরায়েলের বিমানবন্দরে হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরানও। গতকাল ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে হামলা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালানো হয়েছে। একই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং হাইফা ও তেল আবিব শহরে হামলা চালিয়েছে তারা।
এ দিন ইসরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েল বাহিনীর দাবি, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার মধ্যেই এসব বিস্ফোরণ ঘটে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধে দেশটিতে ১১ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে গতকাল কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে আবারও হামলা হয়েছে। কুয়েত উপকূলে ড্রোন হামলা হয়েছে মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকারে। বাহরাইনের মানামায় ইসরায়েলের দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে তেহরান। বাহরাইন, কুয়েত ও আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে ইরানি বাহিনী।
লেবাননে নিহত বেড়ে ২১৭
লেবাননের অন্তত ৮ শহরে গতকাল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা, আইতা আল-শাব, তুলিন, আস-সাওয়ানা ও মাজদাল সেলেম শহর। সেখানকার বৃহত্তম শহর সিদনেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এতে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১৭ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছেন অন্তত ৬৮৩ জন মানুষ।
গতকাল ভোরে লেবাননের ভূখণ্ডে প্রবেশ করা ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর ওপর হামলা করেছে হিজবুল্লাহও। এর বাইরে গোলান মালভূমির ইয়োয়াভ সামরিক ক্যাম্প এবং ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে তারা।
এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।