সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের হাতাহাতির একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, এতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন। একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “বিএনপির আইন জীবীরা কোর্টকে বাপ দাদার সম্পত্তি মনে করতাছে, সঠিক সময়ে সঠিক জবাব দেওয়া হবে ইন্শআল্লাহ।”
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়।
যাচাইয়ে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ ও রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা যায়, ঘটনাটি পাকিস্তানের লাহোরের হাই কোর্টের ভিডিও এবং পাকিস্তানি একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
পাকিস্তান টুডে এর বরাতে বলা হয়, লাহোর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনের সময় আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রিপোর্টে ব্যবহৃত ফিচার ইমেজের সাথে আলোচ্য দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন ই-পেপার ৩ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লাহোর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনজীবীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিরোধ মীমাংসার জন্য ডাকা বৈঠকে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং এক নারী আইনজীবী একজন পুরুষ সহকর্মীর সহিংসতার শিকার হন। পরে উভয় পক্ষ নির্বাচনের ফলাফলের ফরেনসিক অডিট করতে একটি কমিটি গঠনে সম্মত হয় এবং ত্রুটি পাওয়া গেলে পুনরায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অর্থাৎ, ভাইরাল ভিডিওটি বাংলাদেশের আদালত প্রাঙ্গণের কোনো ঘটনা নয়, এটি পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্টে আইনজীবীদের সংঘর্ষের ভিডিও। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
তবে কি ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা যায়, বাংলাদেশেও আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের সংঘাতের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও বিবিসি নিউজ বাংলা-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশালে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাদের জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে ঢুকে কিছু আইনজীবী বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল করেন। তবে এসব ঘটনা বাংলাদেশের হলেও ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।