Image description

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের আশপাশে হামলার ভিডিও সামনে আসার পর মার্কিনিদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো থেকে দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকায় আঘাত হেনেছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক ছিল এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। তবে এতে প্রশ্ন বাড়ছে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি আসলেই ভঙ্গুর।

কোথায় দুর্বলতা?

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইন অতীতে তুলনামূলকভাবে কম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওতে ধীরগতির একটি ইরানি শাহেদ ড্রোন প্রতিরক্ষা ভেদ করে ঢুকতে পেরেছে বলে দাবি উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে এ ধরনের ড্রোন অনেক সময় ভারী মেশিনগান দিয়েও ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এগুলো প্রতিরোধ সবসময় সহজ হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের কী কী প্রতিরক্ষা রয়েছে?

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • THAAD (Terminal High Altitude Area Defense)
  • Patriot ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
  • আরলেই বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার (যেগুলো ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম)
  • ১০০-র বেশি যুদ্ধবিমান

তবে এসব ব্যবস্থা ব্যয়বহুল এবং সংখ্যায় সীমিত। উদাহরণ হিসেবে, ইউক্রেনের হাতে ১০টিরও কম প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি রয়েছে, তবুও তারা রাজধানী কিয়েভকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও স্বার্থ রক্ষায় পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকা কঠিন।

ইরানের সক্ষমতা কতটা?

ধারণা করা হয়, ইরানের হাতে এখনো প্রায় ২,০০০ স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বিপুল সংখ্যক একমুখী আক্রমণ ড্রোন। শাহেদ ড্রোন ইতোমধ্যে রাশিয়ার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে।

ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে রয়েছে, ফলে সম্পূর্ণভাবে তা ধ্বংস করা কঠিন।

সংঘাত কি আরও বাড়বে?

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, ইরান পাল্টা হামলা চালালেও আপাতত তা সীমিত মাত্রায় রেখেছে। তারা হয়তো পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ চায় না। আবার অন্য বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান সর্বশক্তি প্রয়োগ করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যেতে পারে।

একজন সাবেক ব্রিটিশ নৌ-কমান্ডারের ভাষায়, ‘ইরান যদি সব একসঙ্গে ব্যবহার করে, তাহলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।’

ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে, শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। আকাশ থেকে পরিচালিত যুদ্ধ খুব কম ক্ষেত্রেই দ্রুত ও চূড়ান্ত ফল দেয়। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে উভয় পক্ষের অস্ত্রভাণ্ডার ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু ইরানের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত ও সামরিক সক্ষমতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।