Image description

মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসের ভেতরে নামাজ পড়ার অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার মালেগাঁও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ অফিসে এই ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, এলাকার বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে অভিযোগ জানাতে একদল বাসিন্দা ওই অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর আসরের নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় তারা অফিসের ভেতরেই নামাজ আদায় করেন। বুধবার এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয়।

মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কর্মী মহেন্দ্র রঘুনাথ সাওয়ান্তের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩২ (সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়া), ২৯২ (জনবিরক্তি সৃষ্টি), ১৮৯ (বেআইনি সমাবেশ) এবং ১৯০ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিরা অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন এবং জোরপূর্বক ভেতরে অবস্থান করেছেন।

অভিযুক্তদের এক প্রতিনিধি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা দুপুর ৩টার দিকে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কর্মকর্তার দেখা পাননি। আসরের নামাজের সময় হয়ে গেলে তারা ভাবেন যে, নামাজ পড়তে বাইরে গেলে হয়তো কর্মকর্তার সঙ্গে আর দেখা হবে না এবং সমস্যার সমাধান হবে না। তাই তারা সেখানেই নামাজ পড়ে নেন। তাদের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নিয়ম ভাঙার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।

বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে "অবৈধ" বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, রাজ্য মন্ত্রী নিতেশ রানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মালেগাঁওয়ের পৌর কমিশনার রবীন্দ্র যাদব নিশ্চিত করেছেন যে, অফিসের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: দ্য অবজারভার পোস্ট