Image description
 

আগামী সপ্তাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক রাজনৈতিক অধিবেশন শুরু হচ্ছে চীনে। এর ঠিক আগমুহূর্তে আইনপ্রণেতাদের তালিকা থেকে সেনাবাহিনীর ৯ জনসহ ১৯ কর্মকর্তাকে বাদ দিয়েছে দেশটি। দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্থায়ী কমিটি এই বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।

আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কারের কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে কয়েক সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর সর্বোচ্চ পদমর্যাদার সামরিক জেনারেল এবং ঘনিষ্ঠ মিত্র ঝাং ইউকসিয়াকে অপসারণ করেন। এরপর এখন এই বহিষ্কারাদেশ এল।

দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী 'শুদ্ধি' অভিযান চালাচ্ছেন জিনপিং। ওই অভিযানের অংশ হিসেবেই 'শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের' অভিযোগে ঝাংকে সরানো হয়। তবে সাধারণত দুর্নীতির ক্ষেত্রে 'শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘন' একটি কূটনৈতিক শব্দবন্ধ। অপসারণের পর এখন তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে।

এদিকে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। দুর্নীতিকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির জন্য 'সবচেয়ে বড় হুমকি' আখ্যায়িত করেছেন। তবে সমালোচকদের একাংশ বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়াদের মধ্যে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) গ্রাউন্ড ফোর্সের কমান্ডার লি চিয়াওমিং এবং পিএলএ নৌবাহিনীর সাবেক কমান্ডার শেন চিনলং।

তালিকায় আরও বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এবং ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের সাবেক পার্টি প্রধান সুন শাওচংসহ বেশ কয়েকজন প্রাদেশিক কর্মকর্তাও রয়েছেন।

ঝাংকে সরানো ছিল গত কয়েক বছরে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চালানো ধারাবাহিক শুদ্ধি অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এমনই এক অভিযানে ৯ জন শীর্ষ জেনারেলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ সে সময় জানিয়েছিল, এই শুদ্ধি অভিযান দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ।

২০১৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রেসিডেন্ট জিনপিং 'ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীন' শীর্ষক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন। এর অর্থ হলো শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হবেন। তখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে নিজের শাসনের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, এই লড়াই এখনও 'গুরুতর ও জটিল' পর্যায়ে রয়েছে।

আগামী সপ্তাহে 'দুই অধিবেশন' উপলক্ষে হাজার হাজার প্রতিনিধি রাজধানী বেইজিংয়ে আসবেন। এটি চীনের আইনসভা এনপিসি এবং দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের বার্ষিক যৌথ অধিবেশন। ৪ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত চলা এই অধিবেশনে সরকার তার পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং বার্ষিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করবে।