ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যাপক দমন-পীড়নের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি শান্ত করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর ফের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দেশটিতে। সোমবার সেই বিক্ষোভ তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে।
এবারের বিক্ষোভ শুরু করেছে দেশটির কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দেশটির পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার মধ্যেই ফের বিক্ষোভ শুরু হলো।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মূলত রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত অবস্থায় আছে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, আল জাহরা নারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও একই তথ্য জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সবাই ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের পতনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন, অনেকে ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রবর্তনেরও দাবি জানিয়েছে।
পাশপাশি গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং দায়ী নিরাপত্তা কর্মী-কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিও তুলছেন তারা।
সেই নিহতদের স্মরণ করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে শনিবার রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু করে দেশটির তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী অংশ। তাদের বিক্ষোভের পাল্টায় সরকারের পক্ষে মিছিল-সমাবেশের ডাক দেয় ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে থাকা তরুণ-তরুণীরা।
এর আগে অর্থনৈতিক চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে আন্দোলন শুরু করেছিলেন ইরানের ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকরা। কিন্তু শিগগিরই সেই আন্দোলন ব্যাপকমাত্রার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে সেই বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের সহযোগিতা করতে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে শিগগিরই বিক্ষোভ থেকে মনোযোগ সরিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির নিয়ে নতুন হুমকি দেন দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ইরানে, নজিরবিহীন কঠোরতার মাধ্যমে তা দমন করেছিল ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাসদস্যদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)- এর ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ।
তবে ইরানের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানে নিহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
সূত্র : রয়টার্স