ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে হামলায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এমনকি তেহরানে শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে কোন কোন ব্যক্তি টার্গেট হতে পারেন বা কীভাবে বড় ধরনের স্থলবাহিনী ছাড়াই শাসন পরিবর্তন সম্ভব— এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করার কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর কমান্ড কাঠামোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নজর দেওয়া হতে পারে। তবে এ ধরনের হামলার জন্য বাড়তি গোয়েন্দা তথ্য প্রয়োজন বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি ভাবছি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তির শর্ত হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি যুক্তরাষ্ট্র করেনি। তিনি বলেন, জেনেভায় সাম্প্রতিক আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে এবং উভয়পক্ষ একটি সম্ভাব্য চুক্তির সাধারণ নীতিতে একমত হয়েছে। আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে।
এর আগে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। অঞ্চলটিতে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ইরানকে ১৫ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, অর্থবহ চুক্তি না হলে খারাপ পরিণতি হবে। ওমানের মধ্যস্থতায় মাসের শুরুতে মাস্কাটে এবং পরে জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।