ইরানে দীর্ঘমেয়াদি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল আঘাত বাহিনী (স্ট্রাইক ফোর্স) জড়ো করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এতে মার্কিন সেনা হতাহত ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রণতরী পৌঁছালেই হামলা?
কর্মকর্তারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে গড়ে তোলা এই সামরিক শক্তি এখন অপেক্ষা করছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএন জেরাল্ড আর ফোর্ড ও এর সহগামী যুদ্ধজাহাজগুলোর আগমনের জন্য। গত সপ্তাহে জাহাজগুলোকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাহাজগুলো জিব্রাল্টার প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। কর্মকর্তাদের মতে, এগুলো পৌঁছালেই হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে। সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলায় তারা নাম প্রকাশ করেননি।
ট্রাম্পের ১০–১৫ দিনের ইঙ্গিত
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে দ্ব্যর্থক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা একটি চুক্তি করবো, হয়তো করবো না। আগামী ১০ দিনের মধ্যে হয়তো আপনারা জানতে পারবেন।’ পরে তিনি সময়সীমা ‘সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ দিন’ বলে উল্লেখ করেন।
এর মধ্যেই বুধবার হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অঞ্চলে পাঠানো সব মার্কিন বাহিনী অবস্থান নেবে।
খামেনিকে অপসারণের ইঙ্গিত
ট্রাম্প প্রশাসন চায়, এটি স্পষ্ট হোক যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে অপসারণের কথা তুলেছেন। তার মতে, ইরানে নতুন নেতৃত্ব এলে সেটিই ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা’ হতে পারে।
তাহলে অপেক্ষা কেন?
ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন কি না, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। কিছু সূত্রের মতে, ইতালিতে চলমান শীতকালীন অলিম্পিক গেমস আগামী রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) শেষ হচ্ছে। এটিও একটি কৌশলগত বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে, কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক সময়সূচির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র কার্যত হামলার দ্বারপ্রান্তে থাকলেও চূড়ান্ত নির্দেশ এখনো আসেনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে—ওয়াশিংটন কূটনীতি বেছে নেয়, নাকি সামরিক পথ।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট