Image description

মহাকাশের অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) এবং ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের গোপন সরকারি নথিগুলো জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রতিরক্ষা দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব ফেডারেল সংস্থাকে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন। 

 

ট্রাম্প জানান, জনগণের প্রবল আগ্রহের কথা বিবেচনা করেই তিনি ইউএপি এবং এলিয়েন সংক্রান্ত ‘অত্যন্ত জটিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ’ সব তথ্য উন্মুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণাটি মূলত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেছিলেন যে এলিয়েনরা ‘বাস্তব’, যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের দেখেননি এবং সরকারি কোনো গোপন কেন্দ্রে তাদের রাখা হয়নি। 

ওবামার এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করে। তবে ওবামা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, গাণিতিক সম্ভাবনা অনুযায়ী মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা স্বাভাবিক হলেও তার শাসনকালে এলিয়েনদের পৃথিবীতে আসার কোনো প্রমাণ তিনি পাননি।

 

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওবামার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সাংবাদিকদের বলেছেন, ওবামা এই বিষয়ে কথা বলে বড় ভুল করেছেন এবং তিনি এমন তথ্য দিয়েছেন যা অনেকটা গোপনীয় তথ্যের কাছাকাছি। পেন্টাগন এর আগে ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইউএফওগুলো মূলত নজরদারি বিমান বা আবহাওয়া বেলুন এবং এলিয়েন প্রযুক্তির কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই। তবে ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন কয়েক দশকের গোপন নথিপত্র জনসমক্ষে আসার পথ প্রশস্ত হলো।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতারাই। কংগ্রেসের ইউএপি টাস্কফোর্সের চেয়ারওম্যান আন্না পলিনা লুনা প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন যে তারা এখন জনসাধারণের সাথে ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন রিপোর্ট বিশ্লেষণ করতে মুখিয়ে আছেন। 

এমনকি ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যানও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘চমৎকার’ অভিহিত করে বলেছেন যে, সত্য জানার অধিকার বিশ্ববাসীর রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা