Image description

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে গোপন নথি ফাঁস হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে যাচ্ছেন। এ চুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অ-প্রসারণ (নন-প্রলিফারেশন) সুরক্ষা শর্ত আরোপের কথা বলে আসছে। কিন্তু গোপন নথি বলছে, চুক্তিতে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ওই নথিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ‘১২৩ চুক্তি’ সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন শিল্পখাতকে কেন্দ্রে রাখবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। তবে একই সঙ্গে এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত ‘অতিরিক্ত সুরক্ষা ও যাচাই ব্যবস্থার’ উল্লেখ রয়েছে। এটি সৌদি আরবকে নিজস্ব সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালুর পথও খুলে দিতে পারে।

 

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের অনেক আইনপ্রণেতা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারণ এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ। তাদের দাবি, সৌদি আরব যেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত প্রোটোকলে সম্মত হয়। এর ফলে আকস্মিক পরিদর্শনসহ কঠোর নজরদারির সুযোগ দেয়।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সংগঠন আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ) জানিয়েছে, অতিরিক্ত প্রোটোকল অনুসরণ না করলে প্রশাসনকে কংগ্রেসে যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে হয়, সেটিই গত নভেম্বরে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির নন-প্রলিফারেশন নীতিবিষয়ক প্রধান কেলসি ডেভেনপোর্ট বলেন, এ প্রস্তাবিত চুক্তি পারমাণবিক প্রসারের ঝুঁকি যথাযথভাবে বিবেচনা করেছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

 

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও সেই পথে হাঁটবে। ২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা যদি একটি পায়, আমাদেরও একটি নিতে হবে। সৌদি আরব তা দেখতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এসিএর জানিয়েছে, প্রশাসন প্রতিবেদন দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ‘১২৩ চুক্তি’ কংগ্রেসে জমা দিতে পারে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষে বিরোধী প্রস্তাব পাস না হলে চুক্তিটি কার্যকর হবে এবং সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারবে।