Image description

ইরানের বর্তমান ইসলামিক সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় নড়বড়ে হয়ে পড়েছে—এমন মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের অবসানের পর এই প্রথম ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট মিলিয়ে দেশটির শাসনব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়েছে।

এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন এমন এক সময়ে ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে, যখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন তিনি। মাঝখানে সাময়িকভাবে সেই অবস্থান থেকে সরে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও হামলার পরিকল্পনায় ফিরে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে ‘ঐতিহাসিকভাবে খারাপ’ অবস্থায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপ সরকারবিরোধী অসন্তোষকে আরও তীব্র করে তুলেছে, যা শাসকগোষ্ঠীর অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এদিকে ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। রণতরীর সঙ্গে রয়েছে একাধিক সহায়ক যুদ্ধজাহাজ, যেগুলোতে টোমাহকসহ উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজিত রয়েছে। এই মোতায়েনকে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস