Image description

ইরানে চলমান কঠোর দমন–পীড়নের মধ্যে দেশটি ছেড়ে তুরস্কে প্রবেশ করছেন বহু ইরানি নাগরিক। বুধবার ইরান–তুরস্ক সীমান্তের কাপিকয় সীমান্ত ফটক দিয়ে ডজনখানেক ইরানি পরিবার ও ব্যক্তি তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় ভান প্রদেশে প্রবেশ করেন। তাঁরা লাগেজ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আশপাশের শহরের দিকে রওনা হন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে—ইরানে ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ গণবিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই দমন অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘সহায়তা আসছে।’

এদিকে দেশ ত্যাগ করতে সীমান্তে পৌঁছানো ইরানিদের অনেকেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁরা বলছেন, দেশে ফিরে গেলে তাঁদের প্রতিশোধ বা শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পরিচয় প্রকাশ কিংবা বক্তব্য দিতে তাঁরা ভয় পাচ্ছেন।

রয়টার্সকে দুই কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইরান থেকে তুরস্কে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়ার পর এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে তুরস্কের সীমান্ত নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাপিকয় সীমান্ত ফটকে পরিস্থিতি এখনো ‘অস্বাভাবিক’ নয়। তবুও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রয়োজনে নাগরিকেরা স্থলপথে তুরস্ক বা আর্মেনিয়ায় যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

অন্যদিকে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানো হবে। বুধবার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই হুঁশিয়ারির কথা জানান।

আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনালাপে বর্তমান সংকট নিরসনে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।