ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বর্তমানে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির অন্তত ২৬টি প্রদেশের ২২০টিরও বেশি স্থানে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ দমন করতে ইরান সরকার বর্তমানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যাকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ হিসেবে অভিহিত করছেন। খবর এপির।
বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে— ইরানি মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। সম্প্রতি ১ ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ১.৪ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে।
যদিও আন্দোলনের শুরুতে কেবল অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি ছিল, তবে বর্তমানে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং ‘একনায়কতন্ত্রের অবসান’ চেয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। কোনো কোনো স্থানে রাজতন্ত্রের সমর্থনে এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির পক্ষেও স্লোগান শোনা গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, গত ১২ দিনের এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২ হাজার ২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলো ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই সহিংসতার জন্য বিদেশি শক্তিকে দায়ী করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বনেতারা ইরান সরকারকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, তবে পরিস্থিতি এখনো চরম উত্তপ্ত রয়েছে।